ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলিথিন ছাড়া মাছ নিব কীসে

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০২৪
  • ৩০৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার কারওয়ান বাজারে মাছ কিনে পলিথিনে ভরে ব্যাগে রাখছিলেন দেলওয়ারা আক্তার; ঠিক সেই সময়ে পলিথিন নিষিদ্ধের কথা বলতেই বিরক্ত স্বরে বলে উঠলেন- ‘পলিথিন ছাড়া মাছ নিব কীসে?’

তেজগাঁওয়ের এই বাসিন্দা বললেন, “ব্যাগে চাল-ডালসহ আরও অনেক কিছু আছে। সেগুলোও তো পলিথিনে রাখা হয়েছে। সেগুলো না হয় কাগজের ঠোঙ্গায় রাখা যাবে। কিন্তু মাছ তো রাখা যাবে না, ভেজা জিনিস। আর মাছ বা মাংস যখন ফ্রিজে রাখব, তখন তো পলিথিন লাগবেই।”

শনিবার সন্ধ্যায় বিক্রেতা মো. সেলিমের দোকান থেকে মাছ কেনেন দেলওয়ারা আক্তার। পলিথিন নিয়ে তার সঙ্গে আলাপের সময় বিক্রেতা সেলিম বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারও পলিথিন নিষিদ্ধ করছিল। কিন্তু কোনো লাভ হয় নাই।

“এহন এই সরকার আইসা নিষিদ্ধ করতাছে, কিন্তু কোনো লাভ হইব না। কারণ, মানুষ পলিথিন সহজে ব্যবহার করতে পারে।”

অন্তর্বর্তী সরকার অক্টোবরের প্রথম দিন থেকে ঢাকার সুপারশপে নিষিদ্ধ করছে পলিথিন ও পলিপ্রপিলিন ব্যাগ। এক মাস পর ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন নিষিদ্ধ হবে কাঁচাবাজারে।

সরকারের এমন ঘোষণায় এরইমধ্যে সুপারশপে পলিথিন ও পলিপ্রপিলিনের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগও শুরু হয়েছে। স্বপ্ন ও মিনা বাজারসহ বিভিন্ন সুপারশপ ক্রেতাদের ব্যাগ নিয়ে আসার কথা বলছে। ব্যাগ না নিয়ে আসা অন্যরা শপ থেকে ব্যাগ কিনতে পারছেন।

সুপারশপগুলোতে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের ব্যাপারে প্রাথমিক উদ্যোগ দেখা গেলেও খোলা বাজার বা কাঁচাবাজারগুলোতে তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

পলিথিন নিষিদ্ধের বিষয়ে বাজারে আলোচনা থাকলেও এর বিকল্প কী হবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহ থাকলেও বছরের পর বছর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত পলিথিনের কোনো বিকল্পই যেন মাথায় আসছে না তাদের।

ক্রেতা দেলওয়ারাও যেমন বললেন, পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব জিনিসই ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু এখন পর্যন্ত পলিথিনের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য এমন কী বের করেছে সরকার?

”হঠাৎ করে পলিথিন নিষিদ্ধ করলেই তো হবে না।”

কারওয়ান বাজারের আরেক মাছ বিক্রেতা সুমন হোসেন বলেন, “মাইনষেরে আমরা পলিথিনে মাছ না দিলে, কীসে দিমু? আন্দাজে কোন চিন্তা না করে আগেই বন্ধ কইরা দিয়া লাভ আছে কুনো? আলু-পেঁয়াজের লগে মাছ রাখলে সব কিছু গন্ধ হইবো না?”

চকবাজারে খাসির মাংস বিক্রেতা মো. জোবায়েরের ভাষ্য, “ভাই, মাংস ফ্রিজে রাখলে কখনোই পলিথিনের বিকল্প নাই। এদিকে চিন্তাই পইড়া গেছি, প্রশাসন এসে যদি জরিমানা করা শুরু করে।”

পুরান ঢাকার বাসিন্দা পারভিন আক্তার বলেন বাসার ময়লা তো পলিথিন ছাড়া রাখার উপায় নাই। যৌক্তিক বিকল্প বের না করে যদি এসে জরিমানা করা শুরু করে, সেটা তো আমরা মানব না।”

চকবাজারের ব্যবসায়ি মনির হোসেন বলেন “কাগজের বড় ঠোঙ্গায় ঢুকাইয়া বাজারের ব্যাগে রাখলেই হয়। আর ছোটবেলায় মাছ নেওয়ার জন্য দেখতাম বাবারা খালই নিয়া বাজারে যেতেন। এহনও সবাই খালই ব্যবহার করলে হয়।

আসলে পরিবেশের যে অবস্থা সত্যিই ভয়ানক। একটু বৃষ্টি হলেই তো ড্রেন আটকে রাস্তায় নোংরা পানি উঠে। পরে ড্রেন পরিষ্কার করতে গেলে দেখা যায় অজস্র পলিথিন। আন্দোলন করে সরকার পরিবর্তন করে ফেললাম। আর পরিবেশের জন্য এই পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। সরকার একা কিছু করতে পারবে না। সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।”

 

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

পলিথিন ছাড়া মাছ নিব কীসে

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০২৪

ঢাকার কারওয়ান বাজারে মাছ কিনে পলিথিনে ভরে ব্যাগে রাখছিলেন দেলওয়ারা আক্তার; ঠিক সেই সময়ে পলিথিন নিষিদ্ধের কথা বলতেই বিরক্ত স্বরে বলে উঠলেন- ‘পলিথিন ছাড়া মাছ নিব কীসে?’

তেজগাঁওয়ের এই বাসিন্দা বললেন, “ব্যাগে চাল-ডালসহ আরও অনেক কিছু আছে। সেগুলোও তো পলিথিনে রাখা হয়েছে। সেগুলো না হয় কাগজের ঠোঙ্গায় রাখা যাবে। কিন্তু মাছ তো রাখা যাবে না, ভেজা জিনিস। আর মাছ বা মাংস যখন ফ্রিজে রাখব, তখন তো পলিথিন লাগবেই।”

শনিবার সন্ধ্যায় বিক্রেতা মো. সেলিমের দোকান থেকে মাছ কেনেন দেলওয়ারা আক্তার। পলিথিন নিয়ে তার সঙ্গে আলাপের সময় বিক্রেতা সেলিম বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারও পলিথিন নিষিদ্ধ করছিল। কিন্তু কোনো লাভ হয় নাই।

“এহন এই সরকার আইসা নিষিদ্ধ করতাছে, কিন্তু কোনো লাভ হইব না। কারণ, মানুষ পলিথিন সহজে ব্যবহার করতে পারে।”

অন্তর্বর্তী সরকার অক্টোবরের প্রথম দিন থেকে ঢাকার সুপারশপে নিষিদ্ধ করছে পলিথিন ও পলিপ্রপিলিন ব্যাগ। এক মাস পর ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন নিষিদ্ধ হবে কাঁচাবাজারে।

সরকারের এমন ঘোষণায় এরইমধ্যে সুপারশপে পলিথিন ও পলিপ্রপিলিনের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগও শুরু হয়েছে। স্বপ্ন ও মিনা বাজারসহ বিভিন্ন সুপারশপ ক্রেতাদের ব্যাগ নিয়ে আসার কথা বলছে। ব্যাগ না নিয়ে আসা অন্যরা শপ থেকে ব্যাগ কিনতে পারছেন।

সুপারশপগুলোতে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের ব্যাপারে প্রাথমিক উদ্যোগ দেখা গেলেও খোলা বাজার বা কাঁচাবাজারগুলোতে তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

পলিথিন নিষিদ্ধের বিষয়ে বাজারে আলোচনা থাকলেও এর বিকল্প কী হবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহ থাকলেও বছরের পর বছর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত পলিথিনের কোনো বিকল্পই যেন মাথায় আসছে না তাদের।

ক্রেতা দেলওয়ারাও যেমন বললেন, পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব জিনিসই ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু এখন পর্যন্ত পলিথিনের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য এমন কী বের করেছে সরকার?

”হঠাৎ করে পলিথিন নিষিদ্ধ করলেই তো হবে না।”

কারওয়ান বাজারের আরেক মাছ বিক্রেতা সুমন হোসেন বলেন, “মাইনষেরে আমরা পলিথিনে মাছ না দিলে, কীসে দিমু? আন্দাজে কোন চিন্তা না করে আগেই বন্ধ কইরা দিয়া লাভ আছে কুনো? আলু-পেঁয়াজের লগে মাছ রাখলে সব কিছু গন্ধ হইবো না?”

চকবাজারে খাসির মাংস বিক্রেতা মো. জোবায়েরের ভাষ্য, “ভাই, মাংস ফ্রিজে রাখলে কখনোই পলিথিনের বিকল্প নাই। এদিকে চিন্তাই পইড়া গেছি, প্রশাসন এসে যদি জরিমানা করা শুরু করে।”

পুরান ঢাকার বাসিন্দা পারভিন আক্তার বলেন বাসার ময়লা তো পলিথিন ছাড়া রাখার উপায় নাই। যৌক্তিক বিকল্প বের না করে যদি এসে জরিমানা করা শুরু করে, সেটা তো আমরা মানব না।”

চকবাজারের ব্যবসায়ি মনির হোসেন বলেন “কাগজের বড় ঠোঙ্গায় ঢুকাইয়া বাজারের ব্যাগে রাখলেই হয়। আর ছোটবেলায় মাছ নেওয়ার জন্য দেখতাম বাবারা খালই নিয়া বাজারে যেতেন। এহনও সবাই খালই ব্যবহার করলে হয়।

আসলে পরিবেশের যে অবস্থা সত্যিই ভয়ানক। একটু বৃষ্টি হলেই তো ড্রেন আটকে রাস্তায় নোংরা পানি উঠে। পরে ড্রেন পরিষ্কার করতে গেলে দেখা যায় অজস্র পলিথিন। আন্দোলন করে সরকার পরিবর্তন করে ফেললাম। আর পরিবেশের জন্য এই পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। সরকার একা কিছু করতে পারবে না। সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।”