নির্বাচনে আট লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকবে :: জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলি করা হবে :: ভোটকেন্দ্রে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরীরে সিসি ক্যামেরা রাখা হবে :: অনিয়ম হলে পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচনের আগে সারা দেশে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলি করা হবে বলেও জানানো হয়। পাশাপাশি বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের বাদ দেয়ার কথাও জানানো হয়। তার জন্য প্রস্তিুতি নেয়ার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসের আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আট লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে এক লাখ ৭০ হাজার পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং পাঁচ লাখ ৭০ হাজার আনসার বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সদস্যের আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচনের সময় ১৮-৩২ বছর বয়সী ভোটারদের আলাদা বুথ রাখা যায় কি-না, সে বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী মাসগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও কঠোর হতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
শফিকুল আলম বলেছেন, আগামী রোজার আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। ডিসেম্বর মাসের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নতুন করে ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য এবং বিজিপি সদস্য নেয়া হবে। তাদের ডিসেম্বরের আগে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সারা দেশে ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ১৬ হাজার ভোটকেন্দ্র ঝুঁর্কিপূণ রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ করা যায় সেটি করা হবে।
সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করা পুলিশের বডিতে ক্যামেরা থাকবে। কোনো কেন্দ্র অনিয়ম হলে তা বাতিল করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের সাত দিন আগে এবং সাত দিন পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, বিগত ’১৮ এবং ’২৪ সালে যেসব কর্মকর্তা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের এবার দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হবে না। ১৮ সালে যারা ৩৩ বছরে ভোটার হয়েছেন তারা এবার ভোট দেবেন। নির্বাচনের সময় দেশের এবং বাইরের দেশের ষড়যন্ত্র করে তাদের বিষয়গুলোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হবে। তিনি বলেন, এবার সেনাবাহিনী ভোটে মাঠে দায়িত্ব পালন করবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর থেকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজনের তাগিদ দিয়ে আসছে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল।
এমন দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবরই বলে আসছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে গত ১৩ জুন লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হতে পারেÑ এমন বক্তব্য আসে। তার পর থেকেই দেশের রাজনীতির মাঠে কিছুটা নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন সেই কর্মকর্তার বাদ দেয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অগ্রগতি জানানো হয়ে।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 


































