ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ভয়াল স্মৃতি

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ২৩০২ বার পড়া হয়েছে

নাজমুল হাসান :

জুলাইয়ের ১৬ তারিখ থেকে প্রতিদিন আন্দোলনে যেতাম, তদ্রূপ ১৯ তারিখেও আন্দোলনে যাই। ১৯ তারিখ ছিল শুক্রবার, জুমার পরে আমি আমার বাসার রুমমেটসহ আরও ৩ বন্ধু মিলে বাসা থেকে বের হই আর এমনিতেই ভার্সিটির বন্ধুরা মিলে আন্দোলনে যোগ দেই।

আমার বাসা বাড্ডা লিংক রোড । সেদিন মিছিল করতে করতে আমরা মেরুল বাড্ডা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে পর্যন্ত যাই । ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে গিয়ে আমাদের মিছিল সামনে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভব হচ্ছিলো না পুলিশের বাধার জন্য।

রামপুরা ব্রীজের দিকে পুলিশ ছিল প্রায় ২০-৩০ জনের মত আর উপর থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে টহল দিচ্ছিল আর রেকর্ড করছিল, আন্দোলনকারীরা কোন পজিশনে আছে। আন্দোলন নিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমাদের সামনের সারির অনেকেই পুলিশের গুলিতে জায়গা স্পট ডেট হয় এবং অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়।

আমরা কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ সামনে থেকে চারটি ট্যাংক ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে বৃষ্টির মত গুলি ছুড়তে থাকে। তারা সামনের দিকে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে আসতে আসতে গুলি করে। আমাদের সামনের সারির আমরা সবাই গুলি বিদ্ধ হই। কেউ বুকে কেউ পায়ে , কেউ পেঁটে। তখনই আমি আমার দু পায়ে গুলি লাগে, সাথে সাথে রাস্তার পাশে লুটিয়ে পড়ি ।

আমার বন্ধুরা সবাই তাড়া খেয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। তারপর ২০-৩০ মিনিট পর, তিনজন মিলে ধরে আমাকে AMZ হসপিটাল এ নিয়ে যায় । অনেক রোগীর ভিড়ে তারা আমাকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেনি। সেদিন বাড্ডার অবস্থা ছিল ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধের কারণে কাউকে কিছু জানাতেও পারিনি। পরের দিন কারফিউ শিথিল হলে বেলা বারোটার দিকে আমি ঢাকা আগারগাঁও পঙ্গু হসপিটালে ভর্তি হই । দুটি অপারেশন শেষে এখন আমার আরেকটি অপারেশন দরকার ।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ভয়াল স্মৃতি

আপডেট সময় : ০৫:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নাজমুল হাসান :

জুলাইয়ের ১৬ তারিখ থেকে প্রতিদিন আন্দোলনে যেতাম, তদ্রূপ ১৯ তারিখেও আন্দোলনে যাই। ১৯ তারিখ ছিল শুক্রবার, জুমার পরে আমি আমার বাসার রুমমেটসহ আরও ৩ বন্ধু মিলে বাসা থেকে বের হই আর এমনিতেই ভার্সিটির বন্ধুরা মিলে আন্দোলনে যোগ দেই।

আমার বাসা বাড্ডা লিংক রোড । সেদিন মিছিল করতে করতে আমরা মেরুল বাড্ডা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে পর্যন্ত যাই । ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে গিয়ে আমাদের মিছিল সামনে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভব হচ্ছিলো না পুলিশের বাধার জন্য।

রামপুরা ব্রীজের দিকে পুলিশ ছিল প্রায় ২০-৩০ জনের মত আর উপর থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে টহল দিচ্ছিল আর রেকর্ড করছিল, আন্দোলনকারীরা কোন পজিশনে আছে। আন্দোলন নিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমাদের সামনের সারির অনেকেই পুলিশের গুলিতে জায়গা স্পট ডেট হয় এবং অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়।

আমরা কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ সামনে থেকে চারটি ট্যাংক ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে বৃষ্টির মত গুলি ছুড়তে থাকে। তারা সামনের দিকে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে আসতে আসতে গুলি করে। আমাদের সামনের সারির আমরা সবাই গুলি বিদ্ধ হই। কেউ বুকে কেউ পায়ে , কেউ পেঁটে। তখনই আমি আমার দু পায়ে গুলি লাগে, সাথে সাথে রাস্তার পাশে লুটিয়ে পড়ি ।

আমার বন্ধুরা সবাই তাড়া খেয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। তারপর ২০-৩০ মিনিট পর, তিনজন মিলে ধরে আমাকে AMZ হসপিটাল এ নিয়ে যায় । অনেক রোগীর ভিড়ে তারা আমাকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেনি। সেদিন বাড্ডার অবস্থা ছিল ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধের কারণে কাউকে কিছু জানাতেও পারিনি। পরের দিন কারফিউ শিথিল হলে বেলা বারোটার দিকে আমি ঢাকা আগারগাঁও পঙ্গু হসপিটালে ভর্তি হই । দুটি অপারেশন শেষে এখন আমার আরেকটি অপারেশন দরকার ।