ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

সবজিতে স্বস্তি, স্বাভাবিক হয়নি সয়াবিনের বাজার

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৮৯ বার পড়া হয়েছে

সরবরাহ বাড়ায় সবজির বাজারে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে। একইসঙ্গে কমেছে সব ধরনের আলু, পেঁয়াজের দামও। তবে এসব পণ্যের দাম কমলেও বেড়েছে মুরগির মাংসের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন বছরের আগমনকে কেন্দ্র করে মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

অন্যদিকে দাম বাড়ানোর প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি সয়াবিন তেলের বাজার। কোম্পানিগুলোকে অর্ডার দিয়েও তেল পাচ্ছেন না অভিযোগ করে বিক্রেতারা বলছেন, তাদের ঘোরানো হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর খিলগাঁও, শাহজাহানপুরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে ৩০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ইলিশ এক হাজার টাকা, শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কই মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়, হাঁসের ডিম ২৪০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকা কেজি, দেশি মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা।

গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস কেজি ১২০০ টাকা, প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮৫০ থেকে এক হাজার টাকা, কবুতরের বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা হালি।

এদিকে সম্প্রতি সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার ঘুরে এক লিটারের তেলের বোতল সংকট দেখা গেছে। দুই লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা।

আজকে বাজারে টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৩০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৫০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, করলা  ৮০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, ধনেপাতা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা, প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা দরে।

মুরগির ব্যবসায়ী মো. বিপ্লব বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সোনালি মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। বর্তমান বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। কাস্টমার নেই তেমন বিক্রি হচ্ছে না। মনে হচ্ছে মানুষের কাছে টাকা পয়সা নেই এজন্যই বাজারে খারাপ যাচ্ছে।

খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাজারে শাক সবজি পর্যাপ্ত থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণ থাকলেও অন্য কিছুর দাম কমতি নেই। মাছ মাংস তেল সবকিছু বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। আবার শুনলাম একাধিক পণ্যে ভ্যাট বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু সরকার ৫ টাকা বাড়ালে ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। সামনে রমজান মাস ইতোমধ্যে ফলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের পক্ষে ফল খাওয়া সম্ভব নয়। মানুষের খরচ সব দিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু আয় বাড়েনি। আয় আর ব্যয়ের তফাৎ অনেক। বর্তমান সময়ের আয় দিয়ে জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য সম্পদ খোয়াতে হচ্ছে। এজন্য আমাদের মত মানুষদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আব্দুল হামিদ নামের এক ক্রেতা বলেন, শীতকাল তাই সবজির দাম কমছে, কিন্তু অন্য কিছুর দাম তো কমছে না। কদিন পূর্ব তেলের দাম বাড়িয়েছে। মাছ মাংসের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু সবজি খেয়ে তো আর জীবন চলবে না। পুষ্টিকর খাবারের দরকার আছে, কিন্তু সেসব খাদ্য তো মানুষের কোনো এক মুহূর্ত আর বাইরে চলে যাচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সবজিতে স্বস্তি, স্বাভাবিক হয়নি সয়াবিনের বাজার

আপডেট সময় : ০২:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫

সরবরাহ বাড়ায় সবজির বাজারে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে। একইসঙ্গে কমেছে সব ধরনের আলু, পেঁয়াজের দামও। তবে এসব পণ্যের দাম কমলেও বেড়েছে মুরগির মাংসের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন বছরের আগমনকে কেন্দ্র করে মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

অন্যদিকে দাম বাড়ানোর প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি সয়াবিন তেলের বাজার। কোম্পানিগুলোকে অর্ডার দিয়েও তেল পাচ্ছেন না অভিযোগ করে বিক্রেতারা বলছেন, তাদের ঘোরানো হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর খিলগাঁও, শাহজাহানপুরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে ৩০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ইলিশ এক হাজার টাকা, শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কই মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়, হাঁসের ডিম ২৪০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকা কেজি, দেশি মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা।

গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস কেজি ১২০০ টাকা, প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮৫০ থেকে এক হাজার টাকা, কবুতরের বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা হালি।

এদিকে সম্প্রতি সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার ঘুরে এক লিটারের তেলের বোতল সংকট দেখা গেছে। দুই লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা।

আজকে বাজারে টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৩০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৫০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, করলা  ৮০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, ধনেপাতা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা, প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা দরে।

মুরগির ব্যবসায়ী মো. বিপ্লব বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সোনালি মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। বর্তমান বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। কাস্টমার নেই তেমন বিক্রি হচ্ছে না। মনে হচ্ছে মানুষের কাছে টাকা পয়সা নেই এজন্যই বাজারে খারাপ যাচ্ছে।

খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাজারে শাক সবজি পর্যাপ্ত থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণ থাকলেও অন্য কিছুর দাম কমতি নেই। মাছ মাংস তেল সবকিছু বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। আবার শুনলাম একাধিক পণ্যে ভ্যাট বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু সরকার ৫ টাকা বাড়ালে ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। সামনে রমজান মাস ইতোমধ্যে ফলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের পক্ষে ফল খাওয়া সম্ভব নয়। মানুষের খরচ সব দিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু আয় বাড়েনি। আয় আর ব্যয়ের তফাৎ অনেক। বর্তমান সময়ের আয় দিয়ে জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য সম্পদ খোয়াতে হচ্ছে। এজন্য আমাদের মত মানুষদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আব্দুল হামিদ নামের এক ক্রেতা বলেন, শীতকাল তাই সবজির দাম কমছে, কিন্তু অন্য কিছুর দাম তো কমছে না। কদিন পূর্ব তেলের দাম বাড়িয়েছে। মাছ মাংসের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু সবজি খেয়ে তো আর জীবন চলবে না। পুষ্টিকর খাবারের দরকার আছে, কিন্তু সেসব খাদ্য তো মানুষের কোনো এক মুহূর্ত আর বাইরে চলে যাচ্ছে।