ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

কক্সবাজারে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদন

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪
  • ২৭২ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ (বাসস): জেলায় শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদন। যা চলবে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত।
এ সময়ে সাগরের লোনাপানি শুকিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, ঈদগাঁও, সদর ও টেকনাফ এবং পাশের জেলা চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও পটিয়া উপকূলে লবণের চাষ হয়। যা থেকে পূরণ হয় দেশের সার্বিক লবণের চাহিদা। এখন এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন কক্সবাজারের সাত উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও পটিয়ার সমুদ্র উপকূলের চাষিরা।

গত ৪ নভেম্বর কুতুবদিয়ায় চলতি মৌসুমে প্রথম লবণ উৎপাদন শুরু হয়। এ উপকূলের ৭০ শতাংশ জমিই এখন লবণ চাষের জন্য প্রস্তুত। এ ছাড়া পেকুয়ায় ৫০, টেকনাফে ১০ শতাংশ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ৪০ শতাংশ মাঠ প্রস্তুত হয়েছে। বাকি উপজেলার চাষিরাও মাঠে নামতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে চলতি মৌসুমে কুতুবদিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা থেকে ৫৫ টন লবণ সংগৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলতি মৌসুমে কক্সবাজারের টেকনাফ, সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, ঈদগাঁও, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৬৯ হাজার একর জমিতে ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত মৌসুমে ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছিল ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন, যা বাণিজ্যিক লবণ উৎপাদন শুরুর পরবর্তী ৬২ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

পাশাপাশি এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৯ হাজার টন লবণ উৎপাদনের নতুন রেকর্ডও সৃষ্টি হয়। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ছিল। ফলে লবণ উৎপাদনের জন্য মাঠ প্রস্তুত করতে চাষিদের সময় লেগে যায়।

বিসিকের কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভুঁইয়া বলেন, চলতি মৌসুমে প্রথম লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে কুতুবদিয়ায়। বলা যায়, মৌসুম শুরুর ১৫ দিন আগে। এরপর পেকুয়া ও বাঁশখালীতে। এখন ১০ শতাংশ জমিতে লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ জমিতে পুরোদমে লবণ উৎপাদন শুরু হবে। চলবে টানা পাঁচ মাস। তাপমাত্রা বেশি থাকলে লবণের বাম্পার উৎপাদন হতে পারে।

বিসিকের তথ্যমতে, গত বছর ৬৮ হাজার একরের বেশি জমিতে আধুনিক পলিথিন প্রযুক্তি পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন হয়েছে। এবারও শতভাগ জমিতে পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদিত হবে। এ বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির তুলনায় পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদন আড়াই গুণ বেশি হয়। জেলার ৪৪ হাজার প্রান্তিক চাষি, ১ লাখ শ্রমিকসহ অন্তত ১০ লাখ মানুষ লবণ উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদন

আপডেট সময় : ০১:৫৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

কক্সবাজার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ (বাসস): জেলায় শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদন। যা চলবে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত।
এ সময়ে সাগরের লোনাপানি শুকিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, ঈদগাঁও, সদর ও টেকনাফ এবং পাশের জেলা চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও পটিয়া উপকূলে লবণের চাষ হয়। যা থেকে পূরণ হয় দেশের সার্বিক লবণের চাহিদা। এখন এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন কক্সবাজারের সাত উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও পটিয়ার সমুদ্র উপকূলের চাষিরা।

গত ৪ নভেম্বর কুতুবদিয়ায় চলতি মৌসুমে প্রথম লবণ উৎপাদন শুরু হয়। এ উপকূলের ৭০ শতাংশ জমিই এখন লবণ চাষের জন্য প্রস্তুত। এ ছাড়া পেকুয়ায় ৫০, টেকনাফে ১০ শতাংশ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ৪০ শতাংশ মাঠ প্রস্তুত হয়েছে। বাকি উপজেলার চাষিরাও মাঠে নামতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে চলতি মৌসুমে কুতুবদিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা থেকে ৫৫ টন লবণ সংগৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলতি মৌসুমে কক্সবাজারের টেকনাফ, সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, ঈদগাঁও, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৬৯ হাজার একর জমিতে ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত মৌসুমে ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছিল ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন, যা বাণিজ্যিক লবণ উৎপাদন শুরুর পরবর্তী ৬২ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

পাশাপাশি এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৯ হাজার টন লবণ উৎপাদনের নতুন রেকর্ডও সৃষ্টি হয়। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ছিল। ফলে লবণ উৎপাদনের জন্য মাঠ প্রস্তুত করতে চাষিদের সময় লেগে যায়।

বিসিকের কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভুঁইয়া বলেন, চলতি মৌসুমে প্রথম লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে কুতুবদিয়ায়। বলা যায়, মৌসুম শুরুর ১৫ দিন আগে। এরপর পেকুয়া ও বাঁশখালীতে। এখন ১০ শতাংশ জমিতে লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ জমিতে পুরোদমে লবণ উৎপাদন শুরু হবে। চলবে টানা পাঁচ মাস। তাপমাত্রা বেশি থাকলে লবণের বাম্পার উৎপাদন হতে পারে।

বিসিকের তথ্যমতে, গত বছর ৬৮ হাজার একরের বেশি জমিতে আধুনিক পলিথিন প্রযুক্তি পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন হয়েছে। এবারও শতভাগ জমিতে পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদিত হবে। এ বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির তুলনায় পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদন আড়াই গুণ বেশি হয়। জেলার ৪৪ হাজার প্রান্তিক চাষি, ১ লাখ শ্রমিকসহ অন্তত ১০ লাখ মানুষ লবণ উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।