ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

আজারবাইজানের প্রথম বর্তমানে মসজিদ

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪
  • ২৬৭ বার পড়া হয়েছে

জুমা মসজিদ। নির্মাণকাল ৭৪৩ সাল। অবস্থান আজারবাইজানের সামাক্ষি শহরে। একে রাশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ বলা হয়। এর বয়স ১২ শ’ ৮০ বছর। কাষ্পিয়ান ও কৃষ্ণ সাগরের মাঝে ককেশাস অঞ্চলে অবস্থিত আজারবাইজান ১৯২০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। সে কারণে একে রাশিয়ার মসজিদও বলা হয়।

ইসলামের প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম প্রতীক আজারবাইজানের এ জুমা মসজিদ। গোটা ককেশাস অঞ্চলে এটি দ্বিতীয় প্রাচীন মসজিদ। এর মিনার, গম্বুজ, দেয়াল, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, অলঙ্করণের পরতে পরতে প্রাচীন রাজকীয় আভিজাত্যের ছাপ।

সৌন্দর্য মাধুর্য আর বিশালত্বের ছোয়ায় পূর্ণ এ মসজিদ দর্শনে মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করে উদারতা আর প্রশস্ততা। তৃপ্ত হয় নয়ন। ভরে যায় মন। কাছ থেকে না দেখলে এর আভিজাত্য আর সৌন্দর্য লিখে প্রকাশ করা বেশ কঠিন। জাতিসংঘ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে এর নাম।

এ মসজিদের ভেতর বাইরের সবকিছুই বিশ্বের প্রাচীন এবং আধুনিক অন্য সব মসজিদ থেকে অনেকটা ব্যতিক্রম। মসজিদের অবস্থান চারদিকে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে ভল্ট প্রাচীর ঘেরা। সামনে বিশাল শাহান ছাড়াও দুই পাশে প্রশস্ত খোলা চত্বর রয়েছে। আর মসজিদের অভ্যন্তরে সিলিং, খিলান, দেয়াল এবং গম্বুজ ও মিনারের গায়ে যে অলঙ্করণ আর সাজসজ্জা তাও সাধারণত বিশ্বের অন্য অনেক মসজিদের থেকে ব্যতিক্রম।

শুধু ব্যতিক্রম নয়, মনোমুগ্ধকর এর সাজসজ্জা আর অলঙ্করণ। উমাইয়া খলিফাদের সময় থেকে আজারবাইজানের সামাক্ষি দাগেস্তানের দারবান্দ গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ইসলামি সংস্কৃতি বিকশিত হয়।

যুদ্ধ আর ভূমিকম্পে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় অমূল্য এ মসজিদ। অনেকবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয় এটি। ১৯৭০ সালে প্রত্মতাত্ত্বিক খননে ধরা পড়ে সংস্কার এবং পুনর্নির্মাণে মসজিদের মূল নকশার বেশ কিছু পরিবর্তিত হয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সের বেশ কিছু স্থাপনা খননের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরবর্তী আরেক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় বলা হয়েছে মসজিদের প্রাচীন অবকাঠামো এখনো ঠিক আছে।

বর্তমানে মসজিদের যে অবকাঠামো দেখা যাচ্ছে তা পুনর্নির্মাণ শুরু হয় ১৯০৯ সালে। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ১৯১৮ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে সামাক্ষি শহর ধ্বংস হয়। এ সময় ধ্বংস করা হয় এ মসজিদেরও অনেকাংশ। স্টেফানের নেতৃত্বে আর্মানিয়ান পার্টির সশস্ত্র গ্রুপ এ ধ্বংসলীলা চালায় সামাক্ষি শহরে। মসজিদের সেই পোড়া চিহ্ন এখনো সংরক্ষিত আছে। শত শত বছরের ব্যবধানে এ মসজিদের আশপাশে নগরায়ন আর নানা স্থাপনা গড়ে উঠলেও একপ্রান্তে রয়েছে পার্বত্য অঞ্চল, যা এখনো সবুজে ঘেরা আর নয়নাভিরাম।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আজারবাইজানের প্রথম বর্তমানে মসজিদ

আপডেট সময় : ০৬:০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪

জুমা মসজিদ। নির্মাণকাল ৭৪৩ সাল। অবস্থান আজারবাইজানের সামাক্ষি শহরে। একে রাশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ বলা হয়। এর বয়স ১২ শ’ ৮০ বছর। কাষ্পিয়ান ও কৃষ্ণ সাগরের মাঝে ককেশাস অঞ্চলে অবস্থিত আজারবাইজান ১৯২০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। সে কারণে একে রাশিয়ার মসজিদও বলা হয়।

ইসলামের প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম প্রতীক আজারবাইজানের এ জুমা মসজিদ। গোটা ককেশাস অঞ্চলে এটি দ্বিতীয় প্রাচীন মসজিদ। এর মিনার, গম্বুজ, দেয়াল, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, অলঙ্করণের পরতে পরতে প্রাচীন রাজকীয় আভিজাত্যের ছাপ।

সৌন্দর্য মাধুর্য আর বিশালত্বের ছোয়ায় পূর্ণ এ মসজিদ দর্শনে মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করে উদারতা আর প্রশস্ততা। তৃপ্ত হয় নয়ন। ভরে যায় মন। কাছ থেকে না দেখলে এর আভিজাত্য আর সৌন্দর্য লিখে প্রকাশ করা বেশ কঠিন। জাতিসংঘ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে এর নাম।

এ মসজিদের ভেতর বাইরের সবকিছুই বিশ্বের প্রাচীন এবং আধুনিক অন্য সব মসজিদ থেকে অনেকটা ব্যতিক্রম। মসজিদের অবস্থান চারদিকে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে ভল্ট প্রাচীর ঘেরা। সামনে বিশাল শাহান ছাড়াও দুই পাশে প্রশস্ত খোলা চত্বর রয়েছে। আর মসজিদের অভ্যন্তরে সিলিং, খিলান, দেয়াল এবং গম্বুজ ও মিনারের গায়ে যে অলঙ্করণ আর সাজসজ্জা তাও সাধারণত বিশ্বের অন্য অনেক মসজিদের থেকে ব্যতিক্রম।

শুধু ব্যতিক্রম নয়, মনোমুগ্ধকর এর সাজসজ্জা আর অলঙ্করণ। উমাইয়া খলিফাদের সময় থেকে আজারবাইজানের সামাক্ষি দাগেস্তানের দারবান্দ গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ইসলামি সংস্কৃতি বিকশিত হয়।

যুদ্ধ আর ভূমিকম্পে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় অমূল্য এ মসজিদ। অনেকবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয় এটি। ১৯৭০ সালে প্রত্মতাত্ত্বিক খননে ধরা পড়ে সংস্কার এবং পুনর্নির্মাণে মসজিদের মূল নকশার বেশ কিছু পরিবর্তিত হয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সের বেশ কিছু স্থাপনা খননের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরবর্তী আরেক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় বলা হয়েছে মসজিদের প্রাচীন অবকাঠামো এখনো ঠিক আছে।

বর্তমানে মসজিদের যে অবকাঠামো দেখা যাচ্ছে তা পুনর্নির্মাণ শুরু হয় ১৯০৯ সালে। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ১৯১৮ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে সামাক্ষি শহর ধ্বংস হয়। এ সময় ধ্বংস করা হয় এ মসজিদেরও অনেকাংশ। স্টেফানের নেতৃত্বে আর্মানিয়ান পার্টির সশস্ত্র গ্রুপ এ ধ্বংসলীলা চালায় সামাক্ষি শহরে। মসজিদের সেই পোড়া চিহ্ন এখনো সংরক্ষিত আছে। শত শত বছরের ব্যবধানে এ মসজিদের আশপাশে নগরায়ন আর নানা স্থাপনা গড়ে উঠলেও একপ্রান্তে রয়েছে পার্বত্য অঞ্চল, যা এখনো সবুজে ঘেরা আর নয়নাভিরাম।