ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৯:০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

কোনো নারী ব্যবহার করেন— এমন বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানোর ক্ষেত্রে শরিয়তে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে প্রয়োজন ছাড়া নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা নন-মাহরাম পুরুষকে ব্যবহার করতে না দেওয়াই উত্তম বলে মত দিয়েছেন এক মুফতি।

সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এমন মতামত দিয়েছেন ঢাকার মুহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম।

প্রশ্নকারী জানতে চান, একজন নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষ ঘুমাতে বা বসতে পারবেন কি না। জবাবে মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কোনো নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানোর বিষয়ে শরিয়তে নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই এটি ব্যবহার করা জায়েজ।

তবে প্রয়োজন ছাড়া কোনো নন-মাহরাম পুরুষকে নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত থাকাই কাম্য। এতে পর্দা ও শালীনতা বজায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় কুধারণা ও ফিতনার আশঙ্কা কমে।

উত্তরে বলা হয়, নারীর ব্যক্তিগত বিছানা তার স্বামী-স্ত্রীর একান্ত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে কোনো নন-মাহরাম পুরুষ বসা বা শোয়ার ফলে ওই নারী কিংবা স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুচিত চিন্তা বা কল্পনা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলাই উত্তম।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইসরার ৩২ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলা হয়, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল এবং নিকৃষ্ট পথ।’ আয়াতটিতে ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি এর দিকে নিয়ে যেতে পারে— এমন পথ ও পরিবেশ থেকেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে বলে উত্তরে ব্যাখ্যা করা হয়।

এ ছাড়া সহিহ বুখারির ৫২ নম্বর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে নিরাপদ রাখে।’

তবে শুধু কোনো নারী ব্যবহার করেছেন— এই কারণে বিছানাটি নন-মাহরাম পুরুষের জন্য হারাম হয়ে যায় না। অতিথির প্রয়োজনে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে ওই বিছানায় বসা বা ঘুমানো যেতে পারে। কিন্তু অপ্রয়োজনে নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা ব্যবহার না করাই অধিক শালীন ও উত্তম। বিশেষ করে এতে ফিতনা বা অনুচিত কল্পনার আশঙ্কা থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

ইসলামিক প্রশ্ন ও উত্তর   ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি   ইসলামিক জ্ঞান ও বিধান

কুরআন   হাদিস   গুনাহ   আমল

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

আপডেট সময় : ০৯:০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

কোনো নারী ব্যবহার করেন— এমন বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানোর ক্ষেত্রে শরিয়তে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে প্রয়োজন ছাড়া নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা নন-মাহরাম পুরুষকে ব্যবহার করতে না দেওয়াই উত্তম বলে মত দিয়েছেন এক মুফতি।

সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এমন মতামত দিয়েছেন ঢাকার মুহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম।

প্রশ্নকারী জানতে চান, একজন নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষ ঘুমাতে বা বসতে পারবেন কি না। জবাবে মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কোনো নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানোর বিষয়ে শরিয়তে নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই এটি ব্যবহার করা জায়েজ।

তবে প্রয়োজন ছাড়া কোনো নন-মাহরাম পুরুষকে নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত থাকাই কাম্য। এতে পর্দা ও শালীনতা বজায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় কুধারণা ও ফিতনার আশঙ্কা কমে।

উত্তরে বলা হয়, নারীর ব্যক্তিগত বিছানা তার স্বামী-স্ত্রীর একান্ত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে কোনো নন-মাহরাম পুরুষ বসা বা শোয়ার ফলে ওই নারী কিংবা স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুচিত চিন্তা বা কল্পনা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলাই উত্তম।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইসরার ৩২ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলা হয়, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল এবং নিকৃষ্ট পথ।’ আয়াতটিতে ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি এর দিকে নিয়ে যেতে পারে— এমন পথ ও পরিবেশ থেকেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে বলে উত্তরে ব্যাখ্যা করা হয়।

এ ছাড়া সহিহ বুখারির ৫২ নম্বর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে নিরাপদ রাখে।’

তবে শুধু কোনো নারী ব্যবহার করেছেন— এই কারণে বিছানাটি নন-মাহরাম পুরুষের জন্য হারাম হয়ে যায় না। অতিথির প্রয়োজনে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে ওই বিছানায় বসা বা ঘুমানো যেতে পারে। কিন্তু অপ্রয়োজনে নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা ব্যবহার না করাই অধিক শালীন ও উত্তম। বিশেষ করে এতে ফিতনা বা অনুচিত কল্পনার আশঙ্কা থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

ইসলামিক প্রশ্ন ও উত্তর   ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি   ইসলামিক জ্ঞান ও বিধান

কুরআন   হাদিস   গুনাহ   আমল