ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

বিজেপির জোটে দীপকেকে টানার প্রস্তাব, ককরোচ জনতা পার্টিকে ঘিরে নতুন আলোচনা

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

আন্দোলনের মাঠ থেকে এবার কি নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে?

বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে। তার এই প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তরুণ এই আন্দোলনকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে অভিজিত দীপকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন কি না কিংবা আদৌ নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করবেন কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন অভিজিত দীপকে।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে রেখে তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। আন্দোলনের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

তবে এর আগে নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছিলেন দীপকে। তার বক্তব্য ছিল, সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ রাজনীতি ও বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়েছে।

তাই প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ হওয়ার বদলে আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের কথা তুলে ধরার পক্ষে ছিলেন তিনি।

এমন অবস্থানের পর বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দীপকের যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোরও নজর কেড়েছে।

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের একাংশের মধ্যে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা এবং বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ায় দীপকের মতো তরুণ মুখকে দলে টানার উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে এর আগেও দীপকের আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দীপকের পরিচয় ও আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরার পাশাপাশি আন্দোলন ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও কথা বলেছিলেন।

এবার সরাসরি বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার খবর সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে এই প্রস্তাব আটওয়ালের ব্যক্তিগত উদ্যোগ, নাকি জোটের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

অভিজিত দীপকের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো—এতদিন যে প্রচলিত রাজনীতির সমালোচনা করে এসেছেন, তিনি কি এবার সেই রাজনীতির অংশ হবেন, নাকি আন্দোলনের রাজনীতিকেই সামনে রেখে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখবেন।

রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তার পরবর্তী বক্তব্যের দিকে। দীপকে প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানই আরও স্পষ্ট হবে।

ফলে রামদাস আটওয়ালের এই প্রস্তাব শুধু একজন আন্দোলনকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে না, বরং নতুন প্রজন্মের আন্দোলন ও প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

ককরোচ পার্টি   বিজেপি

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিজেপির জোটে দীপকেকে টানার প্রস্তাব, ককরোচ জনতা পার্টিকে ঘিরে নতুন আলোচনা

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

আন্দোলনের মাঠ থেকে এবার কি নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে?

বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে। তার এই প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তরুণ এই আন্দোলনকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে অভিজিত দীপকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন কি না কিংবা আদৌ নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করবেন কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন অভিজিত দীপকে।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে রেখে তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। আন্দোলনের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

তবে এর আগে নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছিলেন দীপকে। তার বক্তব্য ছিল, সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ রাজনীতি ও বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়েছে।

তাই প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ হওয়ার বদলে আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের কথা তুলে ধরার পক্ষে ছিলেন তিনি।

এমন অবস্থানের পর বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দীপকের যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোরও নজর কেড়েছে।

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের একাংশের মধ্যে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা এবং বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ায় দীপকের মতো তরুণ মুখকে দলে টানার উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে এর আগেও দীপকের আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দীপকের পরিচয় ও আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরার পাশাপাশি আন্দোলন ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও কথা বলেছিলেন।

এবার সরাসরি বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার খবর সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে এই প্রস্তাব আটওয়ালের ব্যক্তিগত উদ্যোগ, নাকি জোটের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

অভিজিত দীপকের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো—এতদিন যে প্রচলিত রাজনীতির সমালোচনা করে এসেছেন, তিনি কি এবার সেই রাজনীতির অংশ হবেন, নাকি আন্দোলনের রাজনীতিকেই সামনে রেখে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখবেন।

রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তার পরবর্তী বক্তব্যের দিকে। দীপকে প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানই আরও স্পষ্ট হবে।

ফলে রামদাস আটওয়ালের এই প্রস্তাব শুধু একজন আন্দোলনকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে না, বরং নতুন প্রজন্মের আন্দোলন ও প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

ককরোচ পার্টি   বিজেপি