ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

‘পাম্প আছে, পানি নেই’ – সমাধান জানে না ওয়াসা!

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ঢাকার মিরপুর এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছে তীব্র পানির সংকট। টানা কয়েকদিন ধরে অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি না পৌঁছানোয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পানির জন্য মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার অনেককে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে পানি কিনে দৈনন্দিন কাজ চালাতে হচ্ছে। অথচ এই সংকটের বাস্তব সমাধান কবে হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারছে না ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

মিরপুর, শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, টোলারবাগসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে পানির সংকট এখন এক ধরনের স্থায়ী দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে দিনের পর দিন পানি না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পানির অপেক্ষায় থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে। কেউ রান্না বন্ধ করে দিয়েছে, কেউ আবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ পানি কিনে ব্যবহার করাও এখন তাদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পানির সংকটের কারণে অনেক এলাকায় ট্রাক বা বোতলজাত পানি কিনে দৈনন্দিন কাজ চালাতে হচ্ছে। যেখানে স্বাভাবিক দামে পানি পাওয়ার কথা, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি দাম গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, আগে নির্দিষ্ট সময়ে পানি পাওয়া যেত, এখন সেটিও অনিয়মিত হয়ে গেছে। কখনো রাত গভীর হলে পানি আসে, আবার কখনো একেবারেই আসে না। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

মিরপুর-১ এর টোলারবাগ এলাকার বাসিন্দা আইরিন আক্তার বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাসায় ঠিকমতো পানি নেই। কখনো সকালে অল্প আসে, আবার পুরো দিন একেবারেই থাকে না। ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি, রান্না আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবকিছুই ভেঙে পড়েছে। একই এলাকার বাসিন্দা বাদল রহমান বলেন, প্রতিবছর গরম এলেই এই সমস্যা হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান দেখি না। কল সেন্টারে ফোন দিলেও কোনো কাজ হয় না।

মিরপুর-১২ এর ডি ব্লকের বাসিন্দা খোদেজা আক্তার স্বর্ণা বলেন, অনেক দিন ধরে ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে পাইপে পানি এলেও সেটা এত ময়লা আর দুর্গন্ধযুক্ত থাকে যে ব্যবহার করা যায় না। বাধ্য হয়ে সেই পানি ফেলে দিই, আবার কিনে আনতে হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘পাম্প আছে, পানি নেই’ – সমাধান জানে না ওয়াসা!

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর ঢাকার মিরপুর এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছে তীব্র পানির সংকট। টানা কয়েকদিন ধরে অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি না পৌঁছানোয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পানির জন্য মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার অনেককে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে পানি কিনে দৈনন্দিন কাজ চালাতে হচ্ছে। অথচ এই সংকটের বাস্তব সমাধান কবে হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারছে না ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

মিরপুর, শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, টোলারবাগসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে পানির সংকট এখন এক ধরনের স্থায়ী দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে দিনের পর দিন পানি না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পানির অপেক্ষায় থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে। কেউ রান্না বন্ধ করে দিয়েছে, কেউ আবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ পানি কিনে ব্যবহার করাও এখন তাদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পানির সংকটের কারণে অনেক এলাকায় ট্রাক বা বোতলজাত পানি কিনে দৈনন্দিন কাজ চালাতে হচ্ছে। যেখানে স্বাভাবিক দামে পানি পাওয়ার কথা, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি দাম গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, আগে নির্দিষ্ট সময়ে পানি পাওয়া যেত, এখন সেটিও অনিয়মিত হয়ে গেছে। কখনো রাত গভীর হলে পানি আসে, আবার কখনো একেবারেই আসে না। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

মিরপুর-১ এর টোলারবাগ এলাকার বাসিন্দা আইরিন আক্তার বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাসায় ঠিকমতো পানি নেই। কখনো সকালে অল্প আসে, আবার পুরো দিন একেবারেই থাকে না। ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি, রান্না আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবকিছুই ভেঙে পড়েছে। একই এলাকার বাসিন্দা বাদল রহমান বলেন, প্রতিবছর গরম এলেই এই সমস্যা হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান দেখি না। কল সেন্টারে ফোন দিলেও কোনো কাজ হয় না।

মিরপুর-১২ এর ডি ব্লকের বাসিন্দা খোদেজা আক্তার স্বর্ণা বলেন, অনেক দিন ধরে ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে পাইপে পানি এলেও সেটা এত ময়লা আর দুর্গন্ধযুক্ত থাকে যে ব্যবহার করা যায় না। বাধ্য হয়ে সেই পানি ফেলে দিই, আবার কিনে আনতে হয়।