ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।

মঙ্গলবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর ভেরোনায় একটি ওয়াইন উৎসব পরিদর্শনের সময় তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতালি সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

২০০৩ সালে ইতালির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির আমলে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করে রোম। ২০০৫ সাল থেকে চুক্তিটি কার্যকর ও এটি প্রতি পাঁচ বছর পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়, যার মাধ্যমে দুই দেশ একে-অপরের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম (অস্ত্র) এবং প্রযুক্তি গবেষণা আদান-প্রদান করে।

ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিতের অন্যতম পরিণতি হলো- ইতালি সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে আর সহযোগিতা করবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, মেলোনি গতকাল সোমবার তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

প্রসঙ্গত, মেলোনির ডানপন্থী সরকার ইউরোপে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের নেয় মেলোনির ডানপন্থী সরকার।

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে ইতালিয় প্রধানমন্ত্রী মেলোনি জানান, গাজা উপত্যকার যুদ্ধের জেরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু নিষেধাজ্ঞাকে ইতালি সমর্থন করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড সীমা অতিক্রম করেছে, যা মানবিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে বেসামরিক নাগরিকদের গণহত্যার কারণ হয়েছে।’

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালেও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হওয়া কয়েকটি মার্কিন বিমানকে তাদের ঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ইতালি। এছাড়াও লেবাননের ওপর ইসরায়েলি চলমান হামলারও সমালোচনা করেছে রোম। এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত ইতালীয় সৈন্যরাও রয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।

মঙ্গলবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর ভেরোনায় একটি ওয়াইন উৎসব পরিদর্শনের সময় তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতালি সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

২০০৩ সালে ইতালির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির আমলে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করে রোম। ২০০৫ সাল থেকে চুক্তিটি কার্যকর ও এটি প্রতি পাঁচ বছর পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়, যার মাধ্যমে দুই দেশ একে-অপরের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম (অস্ত্র) এবং প্রযুক্তি গবেষণা আদান-প্রদান করে।

ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিতের অন্যতম পরিণতি হলো- ইতালি সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে আর সহযোগিতা করবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, মেলোনি গতকাল সোমবার তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

প্রসঙ্গত, মেলোনির ডানপন্থী সরকার ইউরোপে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের নেয় মেলোনির ডানপন্থী সরকার।

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে ইতালিয় প্রধানমন্ত্রী মেলোনি জানান, গাজা উপত্যকার যুদ্ধের জেরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু নিষেধাজ্ঞাকে ইতালি সমর্থন করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড সীমা অতিক্রম করেছে, যা মানবিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে বেসামরিক নাগরিকদের গণহত্যার কারণ হয়েছে।’

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালেও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হওয়া কয়েকটি মার্কিন বিমানকে তাদের ঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ইতালি। এছাড়াও লেবাননের ওপর ইসরায়েলি চলমান হামলারও সমালোচনা করেছে রোম। এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত ইতালীয় সৈন্যরাও রয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল