ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

১৩ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান মালিকরা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ২৩১ বার পড়া হয়েছে

রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাম্প বন্ধ রাখতে চান পাম্প মালিকরা বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ ও পেট্রোলপাম্পে হামলা-নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা ১২টায় রাজধানীর মগবাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের সব পেট্রোলপাম্প সরকার নির্ধারিত দামে নিয়মিত জ্বালানি তেল বিক্রি করে আসছে। পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও অনেক জায়গায় ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পাম্পে হামলা, স্টাফদের ওপর নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সংগঠনের নেতারা বলেন, তারা সরকারের প্রতিপক্ষ নন; বরং সব সময় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব ও রেশনিং সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের  ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ বা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ লাইন এবং ‘তেল ফুরিয়ে যাওয়ার’ আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে ট্যাঙ্ক ভরে রাখা বা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার প্রবণতা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে। এতে একদিকে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই তেল থেকে বঞ্চিত হন। ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত তেল সংরক্ষণ দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ায়।
সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

সংগঠনটির দাবি, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় অতিরিক্ত চাহিদার কারণে পরিস্থিতি বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। কোথাও কোথাও পাম্পে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা সহায়তা জোরদার করা জরুরি বলে তারা মনে করে।

সরকারের প্রতি ৮ দফা সুপারিশ: 

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

১. পেট্রোলপাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা।
৩. সাধারণ ক্রেতাদের সচেতনতা ও ধৈর্য বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া।
৪. ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলা।
৫. তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ।
৬. উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদার।
৭. ট্যাঙ্কলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৮. মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দায় না চাপানো।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে এই সাময়িক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তারা সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান মালিকরা

আপডেট সময় : ০২:৩৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাম্প বন্ধ রাখতে চান পাম্প মালিকরা বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ ও পেট্রোলপাম্পে হামলা-নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা ১২টায় রাজধানীর মগবাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের সব পেট্রোলপাম্প সরকার নির্ধারিত দামে নিয়মিত জ্বালানি তেল বিক্রি করে আসছে। পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও অনেক জায়গায় ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পাম্পে হামলা, স্টাফদের ওপর নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সংগঠনের নেতারা বলেন, তারা সরকারের প্রতিপক্ষ নন; বরং সব সময় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব ও রেশনিং সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের  ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ বা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ লাইন এবং ‘তেল ফুরিয়ে যাওয়ার’ আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে ট্যাঙ্ক ভরে রাখা বা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার প্রবণতা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে। এতে একদিকে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই তেল থেকে বঞ্চিত হন। ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত তেল সংরক্ষণ দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ায়।
সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

সংগঠনটির দাবি, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় অতিরিক্ত চাহিদার কারণে পরিস্থিতি বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। কোথাও কোথাও পাম্পে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা সহায়তা জোরদার করা জরুরি বলে তারা মনে করে।

সরকারের প্রতি ৮ দফা সুপারিশ: 

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

১. পেট্রোলপাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা।
৩. সাধারণ ক্রেতাদের সচেতনতা ও ধৈর্য বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া।
৪. ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলা।
৫. তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ।
৬. উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদার।
৭. ট্যাঙ্কলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৮. মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দায় না চাপানো।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে এই সাময়িক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তারা সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।