ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফের প্রস্তাব অনুমোদন

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪০ বার পড়া হয়েছে

শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এটি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল। দলটি সরকার গঠনের পরপরই এই নিয়ে প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়। যার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রীপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদনের তথ্য জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং কৃষি খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করাই এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কাছে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সুদসহ কৃষকদের প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, যা এ মওকুফের আওতায় আসবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ঋণ মওকুফ করা হলে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকগণ ঋণের দায় হতে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষিখাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষকের ব্যয় হতো, সেই অর্থ তারা উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। মাথার উপর ঋণের বোঝা না থাকায় কৃষক পরবর্তী মৌসুমে নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া এই মওকুফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান ভালো হবে। ফলে তারা ব্যাংক থেকে পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের স্থানীয় মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা করবে।

ঋণের বোঝা কমে যাওয়ায় কৃষকরা শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে করে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। ঋণ মওকুফের প্রায় তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে গ্রাম হতে নগরমুখী অভিবাসন কমবে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১-১৯৯৬ সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের আমলে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের কষ্ট লাঘব করে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের ২৫ এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আশঙ্কা বায়রার একাংশের

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফের প্রস্তাব অনুমোদন

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এটি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল। দলটি সরকার গঠনের পরপরই এই নিয়ে প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়। যার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রীপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদনের তথ্য জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং কৃষি খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করাই এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কাছে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সুদসহ কৃষকদের প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, যা এ মওকুফের আওতায় আসবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ঋণ মওকুফ করা হলে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকগণ ঋণের দায় হতে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষিখাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষকের ব্যয় হতো, সেই অর্থ তারা উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। মাথার উপর ঋণের বোঝা না থাকায় কৃষক পরবর্তী মৌসুমে নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া এই মওকুফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান ভালো হবে। ফলে তারা ব্যাংক থেকে পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের স্থানীয় মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা করবে।

ঋণের বোঝা কমে যাওয়ায় কৃষকরা শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে করে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। ঋণ মওকুফের প্রায় তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে গ্রাম হতে নগরমুখী অভিবাসন কমবে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১-১৯৯৬ সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের আমলে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের কষ্ট লাঘব করে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।