ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

রাজধানীজুড়ে নির্বাচনি আমেজ, ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচনের ছুটি পেয়ে দীর্ঘদিনের চেনা ব্যস্ততা, যানজট ও কোলাহল হঠাৎ করেই অনেকটাই নিস্তব্ধ মনে হচ্ছে। ভোট দেওয়ার উদ্দেশে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন রাজধানীতে বসবাসরত লাখো ভোটার। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর জনজীবনে। ঢাকা এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ফাঁকা।

ঢাকায় ফাঁকা হওয়ার পেছনের প্রধান কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ মনে করছেন, এই প্রথম তারা ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন এবং যার যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন। যার ফলে ভোটাররা ভোট দিতে ছুটে যাচ্ছেন। রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষের বড় একটি অংশই নিজ জেলার ভোটার। চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে তারা ঢাকায় থাকলেও ভোট দিতে যেতে হয় নিজ নির্বাচনী এলাকায়। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই মানুষগুলোর বড় একটি অংশ রাজধানী ছাড়ছেন।

বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। গত কয়েকদিনে দূরপাল্লার পরিবহনে নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার চাপ দেখা গেছে। টার্মিনালগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সদরঘাট, কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন।

ভোটারদের ঢাকা ছাড়ার সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সড়কে। যেখানে প্রতিদিন যানজট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এখন যান চলাচল তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে গাড়ির চাপ কমে যাওয়ায় নগরবাসীরা কিছুটা স্বস্তিতে চলাচল করছেন। রাজধানীতে অবস্থানকারী অনেক নগরবাসী বলছেন, নির্বাচন এলেই ঢাকা যেন অন্য রূপ নেয়। যানজট কম, শব্দদূষণ কম, চলাচলে স্বস্তি-এই চিত্র সাময়িক হলেও অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক।

রাজধানীর বিজয় স্মরণী, ফার্মগেট, মহাখালী, ধানমন্ডি, গুলিস্তানসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে তেমন যানজট নেই। দুই-একটি ট্রাফিক সিগনাল ছাড়া কোথাও তেমন গাড়ির চাপ দেখা যায় না। নগরবাসীর দাবি, ঈদ ছাড়া এমন যানজটমুক্ত নগরীর দেখা মেলে না।

ধানমন্ডির বাসিন্দা সাজিয়া রহমান বলেন, ‘এ সপ্তাহের প্রথম দিক থেকে এলাকা প্রায় জনমানবশূন্য হয়ে গেছে। গতকাল থেকে রাস্তায় তেমন গাড়ি দেখা যাচ্ছে না। একেবারে যানজট নেই বললেই চলে। পুরো ঈদের ছুটির মতো ঢাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। মূলত ঢাকায় যারা চাকরির জন্য বসবাস করে, তারা নির্বাচনের আমেজে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ীতে ভোট দিতে যাওয়ায় ঢাকা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে।’

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তাসির আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঈদের ছুটিতে ঢাকা এমন যানজটমুক্ত দেখি। ভোটের আমেজে রাজধানীতে যারা বসবাস করতেন, তারা গ্রামে ভোট দিতে চলে গেছেন। ফলে ঢাকার রাস্তাঘাটে চিরচেনা যানজট দেখা যায় না। রাস্তাঘাট অনেক ফাঁকা।’

মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ঢাকা এমন মানবশূন্য দেখিনি। মনে হচ্ছে মানুষ লম্বা ছুটি বা ঈদের ছুটি পেয়েছে। অনেক বাসা-বাড়ি প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করতে চায় না। ফলে ঈদের মতো আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই যে যার ভোটার এলাকায় ছুটে গেছে।’

পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে মানুষ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ মানুষ পরিবারসহ এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে গণপরিবহনে ভিড় নেই।

সাভার পরিবহনের স্টাফ সোহেল জানান, তারা নিয়মিত সাভার থেকে যাত্রাবাড়ীগামী গণপরিবহন সার্ভিস পরিচালনা করলেও গতকাল থেকে যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে বেশিরভাগ যাত্রী গ্রামে চলে গেছেন, তাই বাসে যাত্রী খুব কম।’

একই চিত্র দেখা গেছে মোহাম্মদপুর-সায়েদাবাদ রুটেও। বাস স্ট্যান্ডের কর্মীরা জানান, যানবাহন চলাচল করলেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। এছাড়াও, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করা গণপরিবহনগুলোতেও তেমন যাত্রীর ভিড় নেই। শহরে চলাচল করা গণপরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, গত তিন-চার দিন যাবৎ আমাদের গাড়িগুলোতে তেমন যাত্রী ছিল না। অনেকে ভোট দিতে বাড়ি চলে যাওয়ায় তেমন যাত্রী নেই।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীজুড়ে নির্বাচনি আমেজ, ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

আপডেট সময় : ০১:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচনের ছুটি পেয়ে দীর্ঘদিনের চেনা ব্যস্ততা, যানজট ও কোলাহল হঠাৎ করেই অনেকটাই নিস্তব্ধ মনে হচ্ছে। ভোট দেওয়ার উদ্দেশে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন রাজধানীতে বসবাসরত লাখো ভোটার। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর জনজীবনে। ঢাকা এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ফাঁকা।

ঢাকায় ফাঁকা হওয়ার পেছনের প্রধান কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ মনে করছেন, এই প্রথম তারা ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন এবং যার যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন। যার ফলে ভোটাররা ভোট দিতে ছুটে যাচ্ছেন। রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষের বড় একটি অংশই নিজ জেলার ভোটার। চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে তারা ঢাকায় থাকলেও ভোট দিতে যেতে হয় নিজ নির্বাচনী এলাকায়। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই মানুষগুলোর বড় একটি অংশ রাজধানী ছাড়ছেন।

বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। গত কয়েকদিনে দূরপাল্লার পরিবহনে নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার চাপ দেখা গেছে। টার্মিনালগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সদরঘাট, কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন।

ভোটারদের ঢাকা ছাড়ার সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সড়কে। যেখানে প্রতিদিন যানজট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এখন যান চলাচল তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে গাড়ির চাপ কমে যাওয়ায় নগরবাসীরা কিছুটা স্বস্তিতে চলাচল করছেন। রাজধানীতে অবস্থানকারী অনেক নগরবাসী বলছেন, নির্বাচন এলেই ঢাকা যেন অন্য রূপ নেয়। যানজট কম, শব্দদূষণ কম, চলাচলে স্বস্তি-এই চিত্র সাময়িক হলেও অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক।

রাজধানীর বিজয় স্মরণী, ফার্মগেট, মহাখালী, ধানমন্ডি, গুলিস্তানসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে তেমন যানজট নেই। দুই-একটি ট্রাফিক সিগনাল ছাড়া কোথাও তেমন গাড়ির চাপ দেখা যায় না। নগরবাসীর দাবি, ঈদ ছাড়া এমন যানজটমুক্ত নগরীর দেখা মেলে না।

ধানমন্ডির বাসিন্দা সাজিয়া রহমান বলেন, ‘এ সপ্তাহের প্রথম দিক থেকে এলাকা প্রায় জনমানবশূন্য হয়ে গেছে। গতকাল থেকে রাস্তায় তেমন গাড়ি দেখা যাচ্ছে না। একেবারে যানজট নেই বললেই চলে। পুরো ঈদের ছুটির মতো ঢাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। মূলত ঢাকায় যারা চাকরির জন্য বসবাস করে, তারা নির্বাচনের আমেজে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ীতে ভোট দিতে যাওয়ায় ঢাকা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে।’

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তাসির আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঈদের ছুটিতে ঢাকা এমন যানজটমুক্ত দেখি। ভোটের আমেজে রাজধানীতে যারা বসবাস করতেন, তারা গ্রামে ভোট দিতে চলে গেছেন। ফলে ঢাকার রাস্তাঘাটে চিরচেনা যানজট দেখা যায় না। রাস্তাঘাট অনেক ফাঁকা।’

মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ঢাকা এমন মানবশূন্য দেখিনি। মনে হচ্ছে মানুষ লম্বা ছুটি বা ঈদের ছুটি পেয়েছে। অনেক বাসা-বাড়ি প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করতে চায় না। ফলে ঈদের মতো আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই যে যার ভোটার এলাকায় ছুটে গেছে।’

পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে মানুষ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ মানুষ পরিবারসহ এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে গণপরিবহনে ভিড় নেই।

সাভার পরিবহনের স্টাফ সোহেল জানান, তারা নিয়মিত সাভার থেকে যাত্রাবাড়ীগামী গণপরিবহন সার্ভিস পরিচালনা করলেও গতকাল থেকে যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে বেশিরভাগ যাত্রী গ্রামে চলে গেছেন, তাই বাসে যাত্রী খুব কম।’

একই চিত্র দেখা গেছে মোহাম্মদপুর-সায়েদাবাদ রুটেও। বাস স্ট্যান্ডের কর্মীরা জানান, যানবাহন চলাচল করলেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। এছাড়াও, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করা গণপরিবহনগুলোতেও তেমন যাত্রীর ভিড় নেই। শহরে চলাচল করা গণপরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, গত তিন-চার দিন যাবৎ আমাদের গাড়িগুলোতে তেমন যাত্রী ছিল না। অনেকে ভোট দিতে বাড়ি চলে যাওয়ায় তেমন যাত্রী নেই।