ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

জাবেরের গুলিবিদ্ধের খবর ছড়ানো ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার ফল: প্রেস সচিব

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আর জাবেরসহ তার আরও একাধিক সহযোদ্ধা। কিন্তু, জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে পরবর্তীতে যে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে তা সাংবাদিকদের অপসাংবাদিকতা এবং ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার কারণেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, আমরা মিডিয়া আউটলেটগুলো থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করি। বিশেষ করে এমন একটা সময়ে, যখন গত ১৮ মাস ধরে দেশের গণমাধ্যমগুলো অভূতপূর্ব স্বাধীনতা উপভোগ করছে। এরপরও তারা সাংবাদিকতার মৌলিক কিছু শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলো।

এরপর প্রেস সচিব লেখেন, শুক্রবার শহীদ শরিফ ওসমান হাদির দীর্ঘদিনের সহযোগী আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। ইনকিলাব মঞ্চের অসংখ্য নেতাকর্মীও সংঘর্ষে আহত হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, জাবেরকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাল ব্যানারে একটি পোস্ট ভেসে ওঠে, যেখানে বাংলা গুলিবিদ্ধ শব্দটি ব্যবহার করে দাবি করা হয় যে জাবেরকে গুলি করা হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষের কাছেই গুলিবিদ্ধ হওয়ার অর্থ দাঁড়ায়- তাজা গুলির দ্বারা আঘাত পাওয়া। এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির তৈরি করে।

এতে তিনি আরও লেখেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যমগুলো ফেসবুকের এই পোস্টটিকে একটি ফ্যাক্ট হিসেবে বিবেচনা করে। তারা এমন সব ফটোকার্ড এবং শিরোনাম প্রকাশ করে যেখানে দাবি করা হয় যে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আবদুল্লাহ আল জাবেরকে গুলি করা হয়েছে। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ভুয়া তথ্য।

শফিকুল আলম লেখেন, আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্টভাবে জানায়, ওই সময় কোনো গুলি চালানো হয়নি। এমনকি, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্রই বহন করে না। পরবর্তীতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এটা নিশ্চিত করে যে, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারীকেই গুলি করা হয়নি।

সংবাদ সংগ্রহ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রেস সচিব লেখেন, একটি ভুলেই সহিংসতা, দাঙ্গা কিংবা অরাজকতা তৈরি হতে পারে। আমাদের সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলো দুঃখজনকভাবে গতকালকের সংঘর্ষের ঘটনা সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদেই পড়েনি, তারা এটাকে আরও বাড়িয়ে বলেছে। তাদের যাচাই করার দক্ষতা এবং সাংবাদিকতায় ন্যূনতম নির্ভুলতার কমতি একটি বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। পরিস্থিতি শান্ত হয় কেবল অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি এবং ঢামেক থেকে বিবৃতি আসার পরই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমরা এমনটা আগেও দেখেছি। মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের পরবর্তী যে সহিংসতা তার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিল অপসাংবাদিকতা। স্পর্শকাতর এবং বিভ্রান্তির প্রতিবেদনের কারণে তৈরি হওয়া মবের জেরে বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা স্কুলটিতে ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকেন। আরেকটি মব হয় সচিবালয়ে, সেখানেও চালানো হয় ভাঙচুর। গতকালের বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার কারণেও ঠিক একই ধরনের একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছিল।

শেষে তিনি লেখেন, সাংবাদিকরা কিন্তু সরকার, রাজনীতিবিদ এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সবক দিতে দেরি করেন না। কেবল আয়নাতে তাকাতে বললেই তাদের অনেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাবেরের গুলিবিদ্ধের খবর ছড়ানো ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার ফল: প্রেস সচিব

আপডেট সময় : ০৪:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আর জাবেরসহ তার আরও একাধিক সহযোদ্ধা। কিন্তু, জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে পরবর্তীতে যে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে তা সাংবাদিকদের অপসাংবাদিকতা এবং ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার কারণেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, আমরা মিডিয়া আউটলেটগুলো থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করি। বিশেষ করে এমন একটা সময়ে, যখন গত ১৮ মাস ধরে দেশের গণমাধ্যমগুলো অভূতপূর্ব স্বাধীনতা উপভোগ করছে। এরপরও তারা সাংবাদিকতার মৌলিক কিছু শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলো।

এরপর প্রেস সচিব লেখেন, শুক্রবার শহীদ শরিফ ওসমান হাদির দীর্ঘদিনের সহযোগী আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। ইনকিলাব মঞ্চের অসংখ্য নেতাকর্মীও সংঘর্ষে আহত হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, জাবেরকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাল ব্যানারে একটি পোস্ট ভেসে ওঠে, যেখানে বাংলা গুলিবিদ্ধ শব্দটি ব্যবহার করে দাবি করা হয় যে জাবেরকে গুলি করা হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষের কাছেই গুলিবিদ্ধ হওয়ার অর্থ দাঁড়ায়- তাজা গুলির দ্বারা আঘাত পাওয়া। এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির তৈরি করে।

এতে তিনি আরও লেখেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যমগুলো ফেসবুকের এই পোস্টটিকে একটি ফ্যাক্ট হিসেবে বিবেচনা করে। তারা এমন সব ফটোকার্ড এবং শিরোনাম প্রকাশ করে যেখানে দাবি করা হয় যে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আবদুল্লাহ আল জাবেরকে গুলি করা হয়েছে। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ভুয়া তথ্য।

শফিকুল আলম লেখেন, আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্টভাবে জানায়, ওই সময় কোনো গুলি চালানো হয়নি। এমনকি, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্রই বহন করে না। পরবর্তীতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এটা নিশ্চিত করে যে, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারীকেই গুলি করা হয়নি।

সংবাদ সংগ্রহ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রেস সচিব লেখেন, একটি ভুলেই সহিংসতা, দাঙ্গা কিংবা অরাজকতা তৈরি হতে পারে। আমাদের সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলো দুঃখজনকভাবে গতকালকের সংঘর্ষের ঘটনা সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদেই পড়েনি, তারা এটাকে আরও বাড়িয়ে বলেছে। তাদের যাচাই করার দক্ষতা এবং সাংবাদিকতায় ন্যূনতম নির্ভুলতার কমতি একটি বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। পরিস্থিতি শান্ত হয় কেবল অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি এবং ঢামেক থেকে বিবৃতি আসার পরই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমরা এমনটা আগেও দেখেছি। মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের পরবর্তী যে সহিংসতা তার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিল অপসাংবাদিকতা। স্পর্শকাতর এবং বিভ্রান্তির প্রতিবেদনের কারণে তৈরি হওয়া মবের জেরে বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা স্কুলটিতে ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকেন। আরেকটি মব হয় সচিবালয়ে, সেখানেও চালানো হয় ভাঙচুর। গতকালের বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার কারণেও ঠিক একই ধরনের একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছিল।

শেষে তিনি লেখেন, সাংবাদিকরা কিন্তু সরকার, রাজনীতিবিদ এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সবক দিতে দেরি করেন না। কেবল আয়নাতে তাকাতে বললেই তাদের অনেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।