ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন, উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন: ইসি আ.লীগ সরকার মেগা প্রজেক্ট করে মেগা দুর্নীতি করেছে: শিবির সভাপতি যিনি দলের সিদ্ধান্ত মানবেন না, তিনি দলের পরিচয়ও বহন করবেন না ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার মার্কিন র‌্যাপার, দান করবেন ১০ লাখ ডলার রংপুর অভিমুখী লংমার্চে কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না: গোলাম পরওয়ার শিক্ষক ৩ জন, শিক্ষার্থী নেই একজনও, বাজে না ঘণ্টা স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য চাইল দুদক দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ৪ জনকে পেট চিড়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলা হয় ফের ২৫ এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আশঙ্কা বায়রার একাংশের

‘ট্রাম্প মোবাইল’ আসলেই আসবে কি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া সোনালি রঙের স্মার্টফোন ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১ (T1 Phone)’ আবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজারে আসেনি। একের পর এক ঘোষিত সময়সীমা পার হলেও ফোনটির কোনো অস্তিত্ব এখনো দেখা যায়নি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এই ফোন আদৌ বাজারে আসবে কি না, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২০২৫ সালের জুন মাসে প্রথমবারের মতো ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১ ফোন’-এর ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন জানানো হয়েছিল, ফোনটি আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে যাবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ফোনটির কোনো খোঁজ মেলেনি। পরে ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে ফোনটির সম্ভাব্য মুক্তির সময় পরিবর্তন করে লেখা হয়— ‘চলতি বছরের শেষ দিকে’।

এই ‘চলতি বছরের শেষ দিকে’ বলতে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ফোনটি বাজারে আসবে। এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন ক্রেতা ও পর্যবেক্ষকেরা। কিন্তু ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার পরও ফোনটির কোনো আপডেট নেই। এখনো ওয়েবসাইটে একই বাক্য ‘লেটার দিস ইয়ার’ লেখা থাকলেও কোন বছরের কথা বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।

সবচেয়ে বিতর্কের বিষয় হলো, ফোনটি এখনো বাজারে না এলেও আগাম বুকিং বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে প্রি-অর্ডার নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা এই অর্থ দিয়েছেন, তাদের হাতে এখনো কোনো ফোন পৌঁছায়নি। এমনকি নির্দিষ্ট কোনো নতুন মুক্তির তারিখও জানানো হয়নি।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প মোবাইলের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার (গভর্নমেন্ট শাটডাউন) কারণে ফোনটির উৎপাদন ও সরবরাহ বিলম্বিত হয়েছে। তখনই তারা ইঙ্গিত দিয়েছিল, বছরের শেষ নাগাদ ফোনটি বাজারে আসার সম্ভাবনা কম। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হয়েছে।

শুরুতে ট্রাম্প মোবাইল দাবি করেছিল, টি১ ফোনটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হবে। কিন্তু পরে সেই অবস্থান থেকেও সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনটির উৎপাদন প্রক্রিয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক জটিলতা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প মোবাইলের নেটওয়ার্ক পরিষেবা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। যারা এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন, তাদের অনেকেই সীমাবদ্ধতা, দুর্বল সেবা ও নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

ফোনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি-এর বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো। তিনি পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই ফোন নিয়ে শুরু থেকেই আমরা সন্দিহান ছিলাম। সম্ভবত তারা এখন বুঝতে পারছে— একটি স্মার্টফোন তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা নয়। দেখা যাক, আদৌ এই ফোন বাস্তব রূপ পায় কি না।”

২০২৬ সাল শুরু হয়ে যাওয়ার পরও ট্রাম্প মোবাইল টি১ ফোনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, যদি ফোনটি শেষ পর্যন্ত বাজারে এসেও যায়, তাহলে সেটি ঘোষণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামের সঙ্গে যুক্ত এই ‘গোল্ডেন ফোন’ এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে শুধু ঘোষণাতেই। ক্রেতা ও সমর্থকদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। প্রশ্ন একটাই— এই ফোন কি সত্যিই বাজারে আসবে, নাকি এটি আরেকটি অপূর্ণ রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যাবে?

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন, উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন: ইসি

‘ট্রাম্প মোবাইল’ আসলেই আসবে কি?

আপডেট সময় : ১২:৫১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া সোনালি রঙের স্মার্টফোন ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১ (T1 Phone)’ আবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজারে আসেনি। একের পর এক ঘোষিত সময়সীমা পার হলেও ফোনটির কোনো অস্তিত্ব এখনো দেখা যায়নি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এই ফোন আদৌ বাজারে আসবে কি না, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২০২৫ সালের জুন মাসে প্রথমবারের মতো ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১ ফোন’-এর ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন জানানো হয়েছিল, ফোনটি আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে যাবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ফোনটির কোনো খোঁজ মেলেনি। পরে ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে ফোনটির সম্ভাব্য মুক্তির সময় পরিবর্তন করে লেখা হয়— ‘চলতি বছরের শেষ দিকে’।

এই ‘চলতি বছরের শেষ দিকে’ বলতে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ফোনটি বাজারে আসবে। এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন ক্রেতা ও পর্যবেক্ষকেরা। কিন্তু ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার পরও ফোনটির কোনো আপডেট নেই। এখনো ওয়েবসাইটে একই বাক্য ‘লেটার দিস ইয়ার’ লেখা থাকলেও কোন বছরের কথা বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।

সবচেয়ে বিতর্কের বিষয় হলো, ফোনটি এখনো বাজারে না এলেও আগাম বুকিং বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে প্রি-অর্ডার নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা এই অর্থ দিয়েছেন, তাদের হাতে এখনো কোনো ফোন পৌঁছায়নি। এমনকি নির্দিষ্ট কোনো নতুন মুক্তির তারিখও জানানো হয়নি।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প মোবাইলের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার (গভর্নমেন্ট শাটডাউন) কারণে ফোনটির উৎপাদন ও সরবরাহ বিলম্বিত হয়েছে। তখনই তারা ইঙ্গিত দিয়েছিল, বছরের শেষ নাগাদ ফোনটি বাজারে আসার সম্ভাবনা কম। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হয়েছে।

শুরুতে ট্রাম্প মোবাইল দাবি করেছিল, টি১ ফোনটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হবে। কিন্তু পরে সেই অবস্থান থেকেও সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনটির উৎপাদন প্রক্রিয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক জটিলতা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প মোবাইলের নেটওয়ার্ক পরিষেবা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। যারা এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন, তাদের অনেকেই সীমাবদ্ধতা, দুর্বল সেবা ও নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

ফোনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি-এর বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো। তিনি পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই ফোন নিয়ে শুরু থেকেই আমরা সন্দিহান ছিলাম। সম্ভবত তারা এখন বুঝতে পারছে— একটি স্মার্টফোন তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা নয়। দেখা যাক, আদৌ এই ফোন বাস্তব রূপ পায় কি না।”

২০২৬ সাল শুরু হয়ে যাওয়ার পরও ট্রাম্প মোবাইল টি১ ফোনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, যদি ফোনটি শেষ পর্যন্ত বাজারে এসেও যায়, তাহলে সেটি ঘোষণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামের সঙ্গে যুক্ত এই ‘গোল্ডেন ফোন’ এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে শুধু ঘোষণাতেই। ক্রেতা ও সমর্থকদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। প্রশ্ন একটাই— এই ফোন কি সত্যিই বাজারে আসবে, নাকি এটি আরেকটি অপূর্ণ রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যাবে?