ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

কানাডায় এক সপ্তাহে ২ ভারতীয় খুন

কানাডায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন হিমাংশি খুরানা (৩০) এবং শিবাঙ্ক অবস্থি (২০) নামে দুই ভারতীয় নাগরিক। 

এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে দেশটির ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে। মূলত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ও খ্রিষ্টানসহ সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় কানাডায় ক্রমেই বাড়ছে ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া সেন্টিমেন্ট’ অর্থাৎ, ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব।

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ভারতীয় ছাত্র শিবাঙ্ক অবস্থিকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা

এ কথা সাফ জানিয়েছেন কানাডার প্রখ্যাত সাংবাদিক ড্যানিয়েল বোর্ডম্যান। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কানাডার পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধেও।

তার মতে, স্থানীয় পুলিশের ‘গড়িমসি’-র জন্যই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে নিখোঁজ হয়েছিলেন হিমাংশি। তার পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় একটি ফ্ল্যাট থেকে।

পুলিশ হিমাংশির লিভ-ইন পার্টনার আবদুল গফুরের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, ২৩ ডিসেম্বর টরন্টোর রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয় ২০ বছরের ছাত্র শিবাঙ্ককে।

সর্বশেষ খুনের ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করে বোর্ডম্যান বলেছেন, আমরা শুধু জানি একজন ভারতীয় খুন হয়েছেন। কিন্তু কেন, কীভাবে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল, তা নিয়ে পুলিশ অন্ধকারে। টরন্টো পুলিশের কাছ থেকে চরম অযোগ্যতা ছাড়া আর কিছু আশা করা যায় না।

বোর্ডম্যানের আরও দাবি, আসলে কানাডা পুলিশের অগ্রাধিকারই ভিন্ন। কোনও অ-শ্বেতাঙ্গ সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে কেউ অনলাইনে সামান্য কটু মন্তব্য করলেও কারও ৫০ বছরের জেল হতে পারে। অথচ খুনের মতো গুরুতর অপরাধকে পুলিশ গুরুত্বই দেয় না।

তার আশঙ্কা পুলিশ হয়তো এই দুই ভারতীয়ের খুনিকে ধরতেও পারবে না। আর যদি ধরেও তবে তাদের মাত্র তিন বছরের সাজা হবে। তিন বছর পরে ছাড়া পেয়ে সে আবার রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে। এই ‘লঘু শাস্তি’র সংস্কৃতিই অপরাধীদের সাহস বাড়াচ্ছে বলে দাবি তার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা। তবে প্রশ্ন উঠছে— উচ্চশিক্ষা বা কর্মসূত্রে যাওয়া ভারতীয়দের জন্য কানাডা কি আর নিরাপদ নয়?

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কানাডায় এক সপ্তাহে ২ ভারতীয় খুন

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

কানাডায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন হিমাংশি খুরানা (৩০) এবং শিবাঙ্ক অবস্থি (২০) নামে দুই ভারতীয় নাগরিক। 

এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে দেশটির ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে। মূলত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ও খ্রিষ্টানসহ সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় কানাডায় ক্রমেই বাড়ছে ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া সেন্টিমেন্ট’ অর্থাৎ, ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব।

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ভারতীয় ছাত্র শিবাঙ্ক অবস্থিকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা

এ কথা সাফ জানিয়েছেন কানাডার প্রখ্যাত সাংবাদিক ড্যানিয়েল বোর্ডম্যান। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কানাডার পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধেও।

তার মতে, স্থানীয় পুলিশের ‘গড়িমসি’-র জন্যই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে নিখোঁজ হয়েছিলেন হিমাংশি। তার পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় একটি ফ্ল্যাট থেকে।

পুলিশ হিমাংশির লিভ-ইন পার্টনার আবদুল গফুরের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, ২৩ ডিসেম্বর টরন্টোর রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয় ২০ বছরের ছাত্র শিবাঙ্ককে।

সর্বশেষ খুনের ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করে বোর্ডম্যান বলেছেন, আমরা শুধু জানি একজন ভারতীয় খুন হয়েছেন। কিন্তু কেন, কীভাবে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল, তা নিয়ে পুলিশ অন্ধকারে। টরন্টো পুলিশের কাছ থেকে চরম অযোগ্যতা ছাড়া আর কিছু আশা করা যায় না।

বোর্ডম্যানের আরও দাবি, আসলে কানাডা পুলিশের অগ্রাধিকারই ভিন্ন। কোনও অ-শ্বেতাঙ্গ সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে কেউ অনলাইনে সামান্য কটু মন্তব্য করলেও কারও ৫০ বছরের জেল হতে পারে। অথচ খুনের মতো গুরুতর অপরাধকে পুলিশ গুরুত্বই দেয় না।

তার আশঙ্কা পুলিশ হয়তো এই দুই ভারতীয়ের খুনিকে ধরতেও পারবে না। আর যদি ধরেও তবে তাদের মাত্র তিন বছরের সাজা হবে। তিন বছর পরে ছাড়া পেয়ে সে আবার রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে। এই ‘লঘু শাস্তি’র সংস্কৃতিই অপরাধীদের সাহস বাড়াচ্ছে বলে দাবি তার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা। তবে প্রশ্ন উঠছে— উচ্চশিক্ষা বা কর্মসূত্রে যাওয়া ভারতীয়দের জন্য কানাডা কি আর নিরাপদ নয়?