ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় আবারও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৪

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবারও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। গাজা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন চার ফিলিস্তিনি। এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হামাস। আর ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের এক শীর্ষ নেতা ছিল তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু। এই বিমান হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

সূত্র জানায়, গাজা শহরের পশ্চিমে আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে একটি বেসামরিক গাড়িতে বিমান হামলা চালানো হলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলাটি গাজা শহরে হামাসের জ্যেষ্ঠ সদস্য রায়েদ সাদকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই হামলায় রায়েদ সাদ নিহত হয়েছেন।

এর আগে সেনাবাহিনীর রেডিও সার্ভিস আর্মি রেডিও রায়েদ সাদকে গাজা উপত্যকায় হামাসের ‘দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে। সম্প্রচারমাধ্যমটি জানায়, গাজা শহরের পশ্চিম অংশে গাড়িতে চলাচলের সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, দক্ষিণ গাজায় এক বোমা বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা আহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওই হামাস সদস্যকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে হামাস এই হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতির অপরাধমূলক লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাক্ষরিত হয়েছিল। হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই অপরাধ আবারও প্রমাণ করে যে দখলদার শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিতে ও তা ব্যর্থ করতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’

সংগঠনটি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং চুক্তির নিশ্চয়তা প্রদানকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘যুদ্ধবিরতির এই প্রকাশ্য লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে’ এবং ‘চুক্তির শর্ত অমান্যকারী ও তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা ফ্যাসিস্ট দখলদার সরকারকে সংযত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শত শতবার তা লঙ্ঘন করেছে। এসব হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১ হাজার ১৮ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও এসব হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় আবারও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৪

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবারও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। গাজা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন চার ফিলিস্তিনি। এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হামাস। আর ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের এক শীর্ষ নেতা ছিল তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু। এই বিমান হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

সূত্র জানায়, গাজা শহরের পশ্চিমে আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে একটি বেসামরিক গাড়িতে বিমান হামলা চালানো হলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলাটি গাজা শহরে হামাসের জ্যেষ্ঠ সদস্য রায়েদ সাদকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই হামলায় রায়েদ সাদ নিহত হয়েছেন।

এর আগে সেনাবাহিনীর রেডিও সার্ভিস আর্মি রেডিও রায়েদ সাদকে গাজা উপত্যকায় হামাসের ‘দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে। সম্প্রচারমাধ্যমটি জানায়, গাজা শহরের পশ্চিম অংশে গাড়িতে চলাচলের সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, দক্ষিণ গাজায় এক বোমা বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা আহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওই হামাস সদস্যকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে হামাস এই হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতির অপরাধমূলক লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাক্ষরিত হয়েছিল। হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই অপরাধ আবারও প্রমাণ করে যে দখলদার শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিতে ও তা ব্যর্থ করতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’

সংগঠনটি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং চুক্তির নিশ্চয়তা প্রদানকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘যুদ্ধবিরতির এই প্রকাশ্য লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে’ এবং ‘চুক্তির শর্ত অমান্যকারী ও তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা ফ্যাসিস্ট দখলদার সরকারকে সংযত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শত শতবার তা লঙ্ঘন করেছে। এসব হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১ হাজার ১৮ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও এসব হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।