ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

মোহাম্মদপুরে ছাত্রদল নেতার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৬৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকা থেকে আহমেদ সাব্বির নামে এক ছাত্রদল নেতার হাত বাঁধা ও গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক জানান তিনি আগেই মারা গেছেন।

মৃত সাব্বিরের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি এলাকায়। তিনি ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ১০ নম্বর রোডের বি-ব্লকের একটি বাসায় থাকতেন।

সাব্বিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা রাজনৈতিক সহকর্মী আকাশ বলেন, আমাকে তার রুমমেট বাবু ফোন দিয়ে জানায় সাব্বির ভাই দরজা খুলছে না। পরে আমি খবর পেয়ে ওই বাসায় গিয়ে অনেক ডাকাডাকি করি। কিন্তু দরজা খোলে না। পরে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে গিয়েও দেখলাম, দেখা যায় না। পরে একটি রড এনে দরজা ভেঙে দেখি হাত বাঁধা অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে, ফ্যানের সঙ্গে একটি রশি ঝুলছে। পরে আশপাশের সবাইকে খবর দিয়ে তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই বাসার অতিথি সোহেল জানান, আমি গতকাল (সোমবার) এই বাসায় এসেছি। আমাকে সকালে বললেন আমরা দুজনে নাস্তা করব। পরে আমাকে ১০০ টাকা দিয়ে চারটি পরোটা, ডিম ভাজি ও সবজি আনতে বলেন। ফিরে এসে দেখি ভাই আর দরজা খুলছেন না। এরপর আমি দারোয়ানকে বলি সাব্বির ভাই তো দরজা খুলছেন না। তিনি বলেন আবার ডাক দেন। এরপর আকাশ ভাই এসে দরজা ভেঙে দেখেন হাত বাঁধা অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছেন। ফ্যানের সঙ্গে একটি রশি ছিল সেটি ছিঁড়ে গেছে, গলায় দাগ রয়েছে।

সাব্বিরের মৃত্যুর খবরে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে অনেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাব্বিরের বড় ভাই আব্দুল আজিজ বলেন, ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না। লাশ উদ্ধার হয়েছে শুনে এসেছি। কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাব্বির একাই মোহাম্মদপুর থাকত। পরিবারের সবাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকি। মোহাম্মদপুরে পড়াশোনা শেষে হোটেল ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি নিয়ে কিছুদিন চাকরিও করেছে। এখন কিছু করত না।

ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ।

তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর থানার এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে হাত বাঁধা ছিল। গলায়ও দাগ রয়েছে। যেই বাসায় ঘটনা ঘটেছে আমরা সেই বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য পুলিশ পাঠিয়েছি। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি এখনো বুঝতে পারছি না। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে।

 

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোহাম্মদপুরে ছাত্রদল নেতার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৩:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকা থেকে আহমেদ সাব্বির নামে এক ছাত্রদল নেতার হাত বাঁধা ও গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক জানান তিনি আগেই মারা গেছেন।

মৃত সাব্বিরের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি এলাকায়। তিনি ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ১০ নম্বর রোডের বি-ব্লকের একটি বাসায় থাকতেন।

সাব্বিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা রাজনৈতিক সহকর্মী আকাশ বলেন, আমাকে তার রুমমেট বাবু ফোন দিয়ে জানায় সাব্বির ভাই দরজা খুলছে না। পরে আমি খবর পেয়ে ওই বাসায় গিয়ে অনেক ডাকাডাকি করি। কিন্তু দরজা খোলে না। পরে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে গিয়েও দেখলাম, দেখা যায় না। পরে একটি রড এনে দরজা ভেঙে দেখি হাত বাঁধা অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে, ফ্যানের সঙ্গে একটি রশি ঝুলছে। পরে আশপাশের সবাইকে খবর দিয়ে তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই বাসার অতিথি সোহেল জানান, আমি গতকাল (সোমবার) এই বাসায় এসেছি। আমাকে সকালে বললেন আমরা দুজনে নাস্তা করব। পরে আমাকে ১০০ টাকা দিয়ে চারটি পরোটা, ডিম ভাজি ও সবজি আনতে বলেন। ফিরে এসে দেখি ভাই আর দরজা খুলছেন না। এরপর আমি দারোয়ানকে বলি সাব্বির ভাই তো দরজা খুলছেন না। তিনি বলেন আবার ডাক দেন। এরপর আকাশ ভাই এসে দরজা ভেঙে দেখেন হাত বাঁধা অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছেন। ফ্যানের সঙ্গে একটি রশি ছিল সেটি ছিঁড়ে গেছে, গলায় দাগ রয়েছে।

সাব্বিরের মৃত্যুর খবরে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে অনেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাব্বিরের বড় ভাই আব্দুল আজিজ বলেন, ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না। লাশ উদ্ধার হয়েছে শুনে এসেছি। কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাব্বির একাই মোহাম্মদপুর থাকত। পরিবারের সবাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকি। মোহাম্মদপুরে পড়াশোনা শেষে হোটেল ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি নিয়ে কিছুদিন চাকরিও করেছে। এখন কিছু করত না।

ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ।

তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর থানার এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে হাত বাঁধা ছিল। গলায়ও দাগ রয়েছে। যেই বাসায় ঘটনা ঘটেছে আমরা সেই বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য পুলিশ পাঠিয়েছি। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি এখনো বুঝতে পারছি না। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে।