ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলা হবে—এতে সন্দেহ নেই: প্রেসসচিব

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৪১ বার পড়া হয়েছে
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবারও বইমেলা আয়োজনের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘মেলা হবে—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই,’ তবে এবারের বইমেলা হবে বৈষম্যহীন এবং সকল মত ও পথের লেখকদের জন্য উন্মুক্ত।রোববার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‌‘বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি’ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বইমেলার অতীতের চিত্র নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, আমরা অবশ্যই এমন কোনো বইমেলা চাই না, যেখানে ৪০ শতাংশ বই হচ্ছে একটা লোকের ওপরে। গত কয়েক বছর এমন একটা বইমেলার সময় গিয়েছে, যেখানে সবই হচ্ছে শেখ পরিবারের বই। উনি টুঙ্গিপাড়ায় পুকুরের পাশে বসে আছেন, সেটা নিয়েও একটা বড় বই কেউ লিখে ফেলেছে। ওই বইগুলো ছিল—কোনোভাবে প্রতারণা করে কিছু টাকা-পয়সা কামানোর জন্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটা বইমেলা চাই, যে বইমেলায় আমাদের সব মানুষের বই থাকবে। যে যেইটাই লিখুক না কেন, যেকোনো ভিন্ন মতের লেখাই থাকুক না কেন, সবার বই যেন বইমেলায় থাকে। পাঠক বেছে নেবেন—উনি যেটা পড়তে চান, যে বই তাকে টানে উনি ওই বইটা কিনবেন।

প্রেসসচিবের কথায়, আমরা চাই এমন একটা মেলা, অবশ্যই সেটা বৈষম্যবিরোধী। কারো প্রতি যেন বৈষম্য না করা হয়। কেউ যেন এসে না বলেন যে, আমার প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি যে বইটা প্রকাশ করতে চাচ্ছি বা বিক্রি করতে চাইতেছি, এটা এখানে করা যাচ্ছে না। এই কথাটা যেন না শোনা হয়।জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান বিগত বছরের বইমেলাকে ‘দলীয় বইমেলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, বিগত বছরের বইমেলাকে দলীয় বইমেলা হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। প্রতিটি স্টল, প্যাভিলিয়ন আওয়ামী লীগের লোকদের দেওয়া হয়েছিল। প্রকাশক ছিল ফ্যাসিস্টদের দোসর। তবে এবারের বইমেলা হবে সবার ও বৈষম্যহীন।

তিনি আসন্ন নির্বাচনের কারণে বইমেলা বন্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা হোক। নির্বাচনের কয়েক দিন বইমেলা বন্ধ রেখে, তা আবার কয়েক দিন বর্ধিত করা যেতে পারে। তাও যাতে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা বন্ধ না থাকে।

তবে বইমেলা শুরুর সময়সূচি একই থাকবে কিনা, তা বাংলা একাডেমি নির্ধারণ করবে বলেও প্রেসসচিব জানান।

আলোচনাসভায় ১৭টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাঈদ বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কবি গাজীউল হাসান খান, ফয়েজ আলম প্রমুখ।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার নির্দেশে ইশতিয়াক ডিএমপিতে টর্চার সেল বানান

মেলা হবে—এতে সন্দেহ নেই: প্রেসসচিব

আপডেট সময় : ০৩:৫১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবারও বইমেলা আয়োজনের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘মেলা হবে—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই,’ তবে এবারের বইমেলা হবে বৈষম্যহীন এবং সকল মত ও পথের লেখকদের জন্য উন্মুক্ত।রোববার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‌‘বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি’ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বইমেলার অতীতের চিত্র নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, আমরা অবশ্যই এমন কোনো বইমেলা চাই না, যেখানে ৪০ শতাংশ বই হচ্ছে একটা লোকের ওপরে। গত কয়েক বছর এমন একটা বইমেলার সময় গিয়েছে, যেখানে সবই হচ্ছে শেখ পরিবারের বই। উনি টুঙ্গিপাড়ায় পুকুরের পাশে বসে আছেন, সেটা নিয়েও একটা বড় বই কেউ লিখে ফেলেছে। ওই বইগুলো ছিল—কোনোভাবে প্রতারণা করে কিছু টাকা-পয়সা কামানোর জন্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটা বইমেলা চাই, যে বইমেলায় আমাদের সব মানুষের বই থাকবে। যে যেইটাই লিখুক না কেন, যেকোনো ভিন্ন মতের লেখাই থাকুক না কেন, সবার বই যেন বইমেলায় থাকে। পাঠক বেছে নেবেন—উনি যেটা পড়তে চান, যে বই তাকে টানে উনি ওই বইটা কিনবেন।

প্রেসসচিবের কথায়, আমরা চাই এমন একটা মেলা, অবশ্যই সেটা বৈষম্যবিরোধী। কারো প্রতি যেন বৈষম্য না করা হয়। কেউ যেন এসে না বলেন যে, আমার প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি যে বইটা প্রকাশ করতে চাচ্ছি বা বিক্রি করতে চাইতেছি, এটা এখানে করা যাচ্ছে না। এই কথাটা যেন না শোনা হয়।জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান বিগত বছরের বইমেলাকে ‘দলীয় বইমেলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, বিগত বছরের বইমেলাকে দলীয় বইমেলা হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। প্রতিটি স্টল, প্যাভিলিয়ন আওয়ামী লীগের লোকদের দেওয়া হয়েছিল। প্রকাশক ছিল ফ্যাসিস্টদের দোসর। তবে এবারের বইমেলা হবে সবার ও বৈষম্যহীন।

তিনি আসন্ন নির্বাচনের কারণে বইমেলা বন্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা হোক। নির্বাচনের কয়েক দিন বইমেলা বন্ধ রেখে, তা আবার কয়েক দিন বর্ধিত করা যেতে পারে। তাও যাতে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা বন্ধ না থাকে।

তবে বইমেলা শুরুর সময়সূচি একই থাকবে কিনা, তা বাংলা একাডেমি নির্ধারণ করবে বলেও প্রেসসচিব জানান।

আলোচনাসভায় ১৭টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাঈদ বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কবি গাজীউল হাসান খান, ফয়েজ আলম প্রমুখ।