ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

এস আলমসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে তিন মামলার চার্জশিট দিল দুদক

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

তিনটি পৃথক মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে এ বছরের ২ জুলাই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে এসব মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল।

প্রথম মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামি মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি. (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) এর কর্মকর্তারা মেসার্স এ এম ট্রেডিং নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করেন। ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ ঋণের টাকা বিতরণ করা হয়। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট না নেওয়া, ঠিকানা যাচাই না করা, এমআইসিআর চেক না নেওয়াসহ নানা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়।

ঋণের টাকা পরবর্তীতে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। এ মামলায় মোট ১৩ জন আসামি অভিযুক্ত।

দ্বিতীয় মামলার অভিযোগে বলা হয়, এ মামলায় একই পদ্ধতিতে ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড কোং নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন ও ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবরে বিতরণের অভিযোগ আনা হয়। এই টাকাও একইভাবে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। এ মামলায়ও ১৩ জন আসামি অভিযুক্ত।

তৃতীয় মামলায় বলা হয়, এ মামলায় ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর মেসার্স সাইফুল অ্যান্ড কোং নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ২৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন এবং ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। এই টাকাও একই পদ্ধতিতে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তরিত হয়। এ মামলায়ও ১৩ জন আসামি অভিযুক্ত।

তিন মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস। এ ছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার, সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের পরিচালক ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১২০বি ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাগুলো করা হয়েছে।

দুদক জানায়, উল্লিখিত তিন মামলায় প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট দায়ের করা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এস আলমসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে তিন মামলার চার্জশিট দিল দুদক

আপডেট সময় : ১০:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

তিনটি পৃথক মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে এ বছরের ২ জুলাই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে এসব মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল।

প্রথম মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামি মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি. (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) এর কর্মকর্তারা মেসার্স এ এম ট্রেডিং নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করেন। ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ ঋণের টাকা বিতরণ করা হয়। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট না নেওয়া, ঠিকানা যাচাই না করা, এমআইসিআর চেক না নেওয়াসহ নানা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়।

ঋণের টাকা পরবর্তীতে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। এ মামলায় মোট ১৩ জন আসামি অভিযুক্ত।

দ্বিতীয় মামলার অভিযোগে বলা হয়, এ মামলায় একই পদ্ধতিতে ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড কোং নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন ও ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবরে বিতরণের অভিযোগ আনা হয়। এই টাকাও একইভাবে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। এ মামলায়ও ১৩ জন আসামি অভিযুক্ত।

তৃতীয় মামলায় বলা হয়, এ মামলায় ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর মেসার্স সাইফুল অ্যান্ড কোং নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ২৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন এবং ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। এই টাকাও একই পদ্ধতিতে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তরিত হয়। এ মামলায়ও ১৩ জন আসামি অভিযুক্ত।

তিন মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস। এ ছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার, সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের পরিচালক ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১২০বি ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাগুলো করা হয়েছে।

দুদক জানায়, উল্লিখিত তিন মামলায় প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট দায়ের করা হয়েছে।