ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

রোমানিয়ায় ঘুষ নিয়ে বাংলাদেশিসহ অন্যদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু, আটক ২

  • আন্তর্জাতিক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪
  • ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

রোমানিয়ায় অভিবাসীদের নিয়ে আসা এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার সময় ধরা পড়েছেন রোমানিয়ার দুই সরকারি কর্মকর্তা।

ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের এসব পারমিট ইস্যু করা হতো। রোমানিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম জিফোর মিডিয়ার এক প্রতিবেনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোমানিয়ায় বেড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যাওয়া কর্মীদের সংখ্যা।

নিজ নিজ দেশ থেকে রোমানিয়ায় আসার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো সরাসরি অথবা এজেন্সির মাধ্যমে তাদের জন্য রোমানিয়ার অভিবাসন দপ্তর থেকে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করে থাকে।

ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনটি করতে সরকারি ফির বাইরে আর কোনো অর্থ দিতে হয় না। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ঘুষ দাবি করে হাতিয়ে নেয় বিপুল অর্থ।

জিফোর মিডিয়া জানিয়েছে, রোমানিয়ার জাতীয় দুর্নীতি দমন অধিদপ্তরের (ডিএনএ)-এর হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন জেনারেল ইন্সপেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (আইজিআই) এর একজন এজেন্ট এবং বুখারেস্ট অঞ্চলের ইলোমিতা কাউন্টির অভিবাসন ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত প্রধান।

দেশটির প্রসিকিউটরেরা দাবি করেছেন, প্রতিটি পারমিট দিতে জনপ্রতি অন্তত ৩০০ ইউরো ঘুষ নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা।

চলতি বছরের এপ্রিলে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মীদের নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর মালিকেরা সরাসরি দুর্নীতি দমন অধিদপ্তরের (ডিএনএ)-এর কাছে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পর তদন্ত শুরু হয়েছিল।

এজেন্সি মালিকেরা প্রসিকিউটরদের বলেন, ২০২১ সাল থেকে বেশ কয়েকজন পুলিশ ও অভিবাসন কর্মকর্তা নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা থেকে রোমানিয়ায় আসতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য ঘুষ চেয়েছে।

পরবর্তীতে এসব মালিকেরা প্রসিকিউটরদের সাথে সহযোগিতা করে কল রেকর্ড এবং ইন্টারসেপশন কৌশল অনুসরণ করতে সম্মত হয়েছিল। তদন্তের সময় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা নিয়োগকর্তাদের কাছে থেকে অর্থ নিতে বুখারেস্টের প্লাজা রোমানিয়া মলের পার্কিং লটে প্রথম সাক্ষাৎ করেছিলেন।

প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, এ সংক্রান্ত ৬৩টি ফাইলের জন্য অভিযুক্তরা সর্বমোট ৪৩ হাজার ইউরো হাতিয়ে নিয়েছেন। রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর ইইউর বাইরের দেশগুলো থেকে আসা প্রায় এক লাখ বিদেশি কর্মী গ্রহণ করে।

যেসব কোম্পানি ও এজেন্সিগুলো দক্ষিণ এশীয় কর্মীদের রোমানিয়ায় নিয়ে আসে তাদের অভিযোগ, দেশটিতে অভিবাসী কর্মীদের কাজের ভিসায় রোমানিয়ায় আনার আনুষ্ঠানিকতাগুলো বেশ দীর্ঘ।

অপরদিকে, স্থানীয় কোম্পানিগুলোর দ্রুত গতিতে শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে প্রায় ৪২ হাজার অভিবাসী ওয়ার্ক পারমিট বা দীর্ঘমেয়াদি কাজের ভিসায় রোমানিয়ায় এসেছেন। সবচেয়ে বেশি ভিসা পেয়েছেন শ্রীলঙ্কানরা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বাংলাদেশিরা।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোমানিয়ায় ঘুষ নিয়ে বাংলাদেশিসহ অন্যদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু, আটক ২

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪

রোমানিয়ায় অভিবাসীদের নিয়ে আসা এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার সময় ধরা পড়েছেন রোমানিয়ার দুই সরকারি কর্মকর্তা।

ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের এসব পারমিট ইস্যু করা হতো। রোমানিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম জিফোর মিডিয়ার এক প্রতিবেনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোমানিয়ায় বেড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যাওয়া কর্মীদের সংখ্যা।

নিজ নিজ দেশ থেকে রোমানিয়ায় আসার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো সরাসরি অথবা এজেন্সির মাধ্যমে তাদের জন্য রোমানিয়ার অভিবাসন দপ্তর থেকে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করে থাকে।

ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনটি করতে সরকারি ফির বাইরে আর কোনো অর্থ দিতে হয় না। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ঘুষ দাবি করে হাতিয়ে নেয় বিপুল অর্থ।

জিফোর মিডিয়া জানিয়েছে, রোমানিয়ার জাতীয় দুর্নীতি দমন অধিদপ্তরের (ডিএনএ)-এর হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন জেনারেল ইন্সপেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (আইজিআই) এর একজন এজেন্ট এবং বুখারেস্ট অঞ্চলের ইলোমিতা কাউন্টির অভিবাসন ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত প্রধান।

দেশটির প্রসিকিউটরেরা দাবি করেছেন, প্রতিটি পারমিট দিতে জনপ্রতি অন্তত ৩০০ ইউরো ঘুষ নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা।

চলতি বছরের এপ্রিলে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মীদের নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর মালিকেরা সরাসরি দুর্নীতি দমন অধিদপ্তরের (ডিএনএ)-এর কাছে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পর তদন্ত শুরু হয়েছিল।

এজেন্সি মালিকেরা প্রসিকিউটরদের বলেন, ২০২১ সাল থেকে বেশ কয়েকজন পুলিশ ও অভিবাসন কর্মকর্তা নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা থেকে রোমানিয়ায় আসতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য ঘুষ চেয়েছে।

পরবর্তীতে এসব মালিকেরা প্রসিকিউটরদের সাথে সহযোগিতা করে কল রেকর্ড এবং ইন্টারসেপশন কৌশল অনুসরণ করতে সম্মত হয়েছিল। তদন্তের সময় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা নিয়োগকর্তাদের কাছে থেকে অর্থ নিতে বুখারেস্টের প্লাজা রোমানিয়া মলের পার্কিং লটে প্রথম সাক্ষাৎ করেছিলেন।

প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, এ সংক্রান্ত ৬৩টি ফাইলের জন্য অভিযুক্তরা সর্বমোট ৪৩ হাজার ইউরো হাতিয়ে নিয়েছেন। রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর ইইউর বাইরের দেশগুলো থেকে আসা প্রায় এক লাখ বিদেশি কর্মী গ্রহণ করে।

যেসব কোম্পানি ও এজেন্সিগুলো দক্ষিণ এশীয় কর্মীদের রোমানিয়ায় নিয়ে আসে তাদের অভিযোগ, দেশটিতে অভিবাসী কর্মীদের কাজের ভিসায় রোমানিয়ায় আনার আনুষ্ঠানিকতাগুলো বেশ দীর্ঘ।

অপরদিকে, স্থানীয় কোম্পানিগুলোর দ্রুত গতিতে শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে প্রায় ৪২ হাজার অভিবাসী ওয়ার্ক পারমিট বা দীর্ঘমেয়াদি কাজের ভিসায় রোমানিয়ায় এসেছেন। সবচেয়ে বেশি ভিসা পেয়েছেন শ্রীলঙ্কানরা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বাংলাদেশিরা।