ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচারসহ ৬ দফা দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মাদ্রাসা-প্রেক্ষিত সংগঠন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি মিল্লাতিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে টিএসসি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটি এসব দাবি জানায়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ এবং সদস্যসচিব হোসাইন আহমাদ জুবায়ের। কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মিল্লাতিয়ান পটভূমির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাসরুল্লাহ নাঈম, নাহিদুল ইসলাম, শেরশাহ আলী খান, মুজাহিদুল ইসলাম, সগীর ইবনে ইসমাইল, সালমান সাইফ সিদ্দিকী প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুল হক হলসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ফরেনসিক প্রতিবেদনে জানা যায়, সাজিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে লাশ পানিতে ফেলা হয়। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরবতা ও গাফিলতি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তারা বলেন, ১৬ জুলাই রাত ৩টার দিকে সাজিদকে হত্যা করা হয় এবং ১৭ জুলাই বিকেল ৬টায় তার লাশ উদ্ধার হয়। লাশে গলা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট থাকলেও প্রশাসন এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। এছাড়া যেখানে লাশ পাওয়া গেছে, সেই স্থানে ছিল না কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা বা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা—যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম অবহেলার প্রমাণ।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো জানান, এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একাত্ম থাকবে।

তাদের ছয় দফা দাবিগুলো হলো-

১. পিবিআই, সিআইডি অথবা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

৪. সাজিদের পরিবারকে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে হবে।

৫. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনসহ সকল শিক্ষার্থীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় সাজিদ হত্যার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচারসহ ৬ দফা দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৪:১৭:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মাদ্রাসা-প্রেক্ষিত সংগঠন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি মিল্লাতিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে টিএসসি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটি এসব দাবি জানায়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ এবং সদস্যসচিব হোসাইন আহমাদ জুবায়ের। কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মিল্লাতিয়ান পটভূমির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাসরুল্লাহ নাঈম, নাহিদুল ইসলাম, শেরশাহ আলী খান, মুজাহিদুল ইসলাম, সগীর ইবনে ইসমাইল, সালমান সাইফ সিদ্দিকী প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুল হক হলসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ফরেনসিক প্রতিবেদনে জানা যায়, সাজিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে লাশ পানিতে ফেলা হয়। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরবতা ও গাফিলতি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তারা বলেন, ১৬ জুলাই রাত ৩টার দিকে সাজিদকে হত্যা করা হয় এবং ১৭ জুলাই বিকেল ৬টায় তার লাশ উদ্ধার হয়। লাশে গলা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট থাকলেও প্রশাসন এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। এছাড়া যেখানে লাশ পাওয়া গেছে, সেই স্থানে ছিল না কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা বা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা—যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম অবহেলার প্রমাণ।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো জানান, এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একাত্ম থাকবে।

তাদের ছয় দফা দাবিগুলো হলো-

১. পিবিআই, সিআইডি অথবা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

৪. সাজিদের পরিবারকে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে হবে।

৫. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনসহ সকল শিক্ষার্থীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় সাজিদ হত্যার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।