ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

তালেবান নেতাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) মঙ্গলবার দুই শীর্ষ তালেবান নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও মেয়েদের ওপর নির্যাতনের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ও প্রধান বিচারপতি আব্দুল হাকিম হাক্কানিকে লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের জন্য সন্দেহ করার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিচারকরা।

আদালত এক বিবৃতিতে বলেছেন, তালেবান সরকার জনগনের ওপর, বিশেষ করে নারীদের লিঙ্গ পরিচয়ের জন্য তাদের ওপর যেসব বিধি-নিষেধ জারি করেছে, তা মৌলিক মানবাধিকার বিঘ্নিত করছে।

আইসিসির বিচারকরা বলেছেন, তালেবান নারীদের শিক্ষা, গোপনীয়তা ও পারিবারিক জীবনের অধিকার এবং চলাফেরা, মত প্রকাশ, চিন্তা-ভাবনা, বোধ ও ধর্মের স্বাধীনতা থেকে গুরুতরভাবে বঞ্চিত করেছে। এ ছাড়া তালেবানের লিঙ্গনীতির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ দাবি করে লিঙ্গপরিচয় ও যৌনতা বিষয়ে মত প্রকাশের জন্য অন্য ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আদালত আরো বলেছেন, উল্লেখিত অভিযোগ তালেবান ক্ষমতায় আসার পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট থেকে অন্তত ২০ জানুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মূলত বিশ্বে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো জঘন্য অপরাধগুলো নিয়ে কাজ করে।

তবে এটির নিজস্ব কোনো পুলিশ বা বাহিনী নেই। সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো সম্পন্ন করে। তত্ত্বগতভাবে, এর অর্থ হলো আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা যে কেউ আটকের ভয়ে সদস্য রাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারবে না। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর, তালেবান কর্তৃপক্ষ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন নারীদের ওপর তাদের কঠোর আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু তারা দ্রুতই নারীদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে। এটিকে লিঙ্গ বর্ণবাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে  জাতিসংঘ।

জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুরোধ করার সময় প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান বলেছিলেন, আফগান নারী ও মেয়েশিশুদের পাশাপাশি এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় তালেবানদের কঠোর ও অযৌক্তিক নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের এই পদক্ষেপ আফগান নারীদের ওপর চলমান অবস্থা গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি জানান।

তিনি সেই সময় সতর্ক করেছিলেন, তিনি শীঘ্রই অন্যান্য তালেবান কর্মকর্তাদের জন্যও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাইবেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তালেবান নেতাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় : ০১:০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) মঙ্গলবার দুই শীর্ষ তালেবান নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও মেয়েদের ওপর নির্যাতনের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ও প্রধান বিচারপতি আব্দুল হাকিম হাক্কানিকে লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের জন্য সন্দেহ করার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিচারকরা।

আদালত এক বিবৃতিতে বলেছেন, তালেবান সরকার জনগনের ওপর, বিশেষ করে নারীদের লিঙ্গ পরিচয়ের জন্য তাদের ওপর যেসব বিধি-নিষেধ জারি করেছে, তা মৌলিক মানবাধিকার বিঘ্নিত করছে।

আইসিসির বিচারকরা বলেছেন, তালেবান নারীদের শিক্ষা, গোপনীয়তা ও পারিবারিক জীবনের অধিকার এবং চলাফেরা, মত প্রকাশ, চিন্তা-ভাবনা, বোধ ও ধর্মের স্বাধীনতা থেকে গুরুতরভাবে বঞ্চিত করেছে। এ ছাড়া তালেবানের লিঙ্গনীতির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ দাবি করে লিঙ্গপরিচয় ও যৌনতা বিষয়ে মত প্রকাশের জন্য অন্য ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আদালত আরো বলেছেন, উল্লেখিত অভিযোগ তালেবান ক্ষমতায় আসার পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট থেকে অন্তত ২০ জানুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মূলত বিশ্বে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো জঘন্য অপরাধগুলো নিয়ে কাজ করে।

তবে এটির নিজস্ব কোনো পুলিশ বা বাহিনী নেই। সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো সম্পন্ন করে। তত্ত্বগতভাবে, এর অর্থ হলো আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা যে কেউ আটকের ভয়ে সদস্য রাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারবে না। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর, তালেবান কর্তৃপক্ষ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন নারীদের ওপর তাদের কঠোর আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু তারা দ্রুতই নারীদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে। এটিকে লিঙ্গ বর্ণবাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে  জাতিসংঘ।

জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুরোধ করার সময় প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান বলেছিলেন, আফগান নারী ও মেয়েশিশুদের পাশাপাশি এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় তালেবানদের কঠোর ও অযৌক্তিক নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের এই পদক্ষেপ আফগান নারীদের ওপর চলমান অবস্থা গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি জানান।

তিনি সেই সময় সতর্ক করেছিলেন, তিনি শীঘ্রই অন্যান্য তালেবান কর্মকর্তাদের জন্যও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাইবেন।